Friday , December 9 2016
সদ্য প্রাপ্ত
Home / লাইফস্টাইল / স্ত্রী বদ মেজাজ হলে তাকে কিভাবে রাখবেন

স্ত্রী বদ মেজাজ হলে তাকে কিভাবে রাখবেন

 হাদীস-৭৬: হযরত লাকীত ইবনে ছাবরা (রাঃ) বলেনঃ আমি একদিন রাসূলুল্লাহ (সাঃ)—কে বললাম, আমার হল মূর্খ ও কর্কশ ভাষী স্ত্রী আছে, আমি কি করতে পারি? রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেনঃ তাকে তালাক দিয়ে দাও। আমি বললাম হুজুর! তার কোলে আমার একটি সন্তান আছে তদুপরি দীর্ঘদিন তার সাথে একত্রে থাকার দরুন এখন পৃথক৯ হতে মনে চায় না। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেনঃ তাহলে তাকে নসীহত করতে থাক এতে যদি কোন পরিবর্তন হয়; তাহলে তাকে রেখে দাও। তবে সাবধান; তাকে দাসীর ন্যায় প্রহার করা কিন্তু জায়েয হবে না। (আবু দাউদ)

হাদীস-৭৭: হযরত হাকীম ইবনে মুআবিয়া কোশায়রী বলেন, আমি একদিন জিজ্ঞাসা করলাম যে, ইয়া রাসূলুল্লাহ! স্ত্রীর প্রতি স্বামীর দায়িত্ব কি? রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেনঃ

(১) তুমি যখন খাবে, তাকেও খাওয়াবে, (২) যখন তুমি পরবে, তাকেও পরাবে, (৩) স্ত্রীর চেহারার উপর প্রহার  করবে না, (৪) স্ত্রীকে গালি দিও না, (৫) স্ত্রীকে ত্যাগ করে কোথাও যেও না। তবে যদি প্রয়োজন মনে কর তাহলে শাসনের জন্য ঘরের বিছানা আলাদা করে দিতে পার।

ফাতাওয়ায়ে কাজীখানে আছে যে, মুসলমান স্বামী চার কারণে স্ত্রীকে প্রহার করতে পারে।

(১) স্বামী যদি স্ত্রীকে সেজে—গুজে চলতে বলে আর স্ত্রী ভালো পোষাক না পরে, চুল না আঁচড়ায় এবং সেজে—গুজে না চলে,

(২) স্বামী যদি সহবাস করতে চায় আর স্ত্রী শরয়ী ওজর ব্যতীত রাজী না হয়।

(৩)  যদি হায়েজ বন্ধ হওয়ার পর এবং গোসল ফরয হওয়ার পর গসল না করে।

(৪)যদি নামায না পড়ায় অভ্যস্ত হয়ে যায়।

অর্থাৎ এ চার অবস্থায় স্ত্রীকে প্রহার করা জায়েয আছে। এ ছাড়া স্ত্রী যদি অন্যায় ভাবে চলাফেরা করে তখনও প্রহার করা জায়েয । আর যদি খানা পাক না করার কারণে, মা-বাপের কথা না মানার কারণে, ঘর ঝাড়ু না দেয়ার কারণে অথবা অন্য কোন সাধারণ কারণে স্বামী স্ত্রীকে প্রহার করে; তাহলে স্বামী গুনাহগার হবে এবং আল্লাহর নিকট জবাবদিহি করতে হবে।

হাদীসে এসেছে যে, একটি বকরী যদি আরেকটি বকরীকে গুতো দেয়; তাহলে কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা এরও বিচার করবেন।

এতএব প্রতিটি মুসলমানেরই উচিৎ স্ত্রির হক আদায় করা, যেমনি ভাবে হুজুর (সাঃ) স্ত্রীদের হক আদায় করেছেন। অনেক স্বামী অযথা স্ত্রীকে গালি দিতে শুরু করে। এটাও না জায়েয । যে স্বামী  মুসলমান স্ত্রীকে গালাগাল করে, সে ফাসেক ও আল্লাহর নাফরমান বলে বিবেচিত । এমন ব্যক্তির সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়। তার ইমামতও মাকরুহ হবে। এতএব স্ত্রীদের ব্যাপারে আমাদের সতর্কতা অবলম্বন করা উচিৎ।

Check Also

sad-pictures-of-love

যে কারণে প্রেমিককে ছেড়ে চলে যেতে চায় মেয়েরা!

অনলাইন ডেস্ক: পুরুষের জীবনে নারীর প্রেমে পড়া মোটেই নেতিবাচক কিছু নয়। প্রেমই পারে পুরুষের জীবনকে ...