Saturday , December 10 2016
সদ্য প্রাপ্ত
Home / Slider / রামপাল প্রকল্প বাতিল চেয়ে ইউনেসকোর সুপারিশ
প্রকাশঃ 24 Sep, 2016, Saturday 7:04 AM || অনলাইন সংস্করণ
energprojonmo

রামপাল প্রকল্প বাতিল চেয়ে ইউনেসকোর সুপারিশ

প্রজন্ম ডেস্ক: সুন্দরবনের পাশে রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল করার জন্য বাংলাদেশের কাছে সুপারিশ করেছে জাতিসংঘের বিজ্ঞান, শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ইউনেসকো। এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মিত হলে তাতে সুন্দরবনের অপূরণীয় ক্ষতি হবে উল্লেখ করে প্রকল্পটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে।

গত মার্চে বাংলাদেশ সফর করে যাওয়া ইউনেসকোর তিন সদস্যের বিশেষজ্ঞ দল সরকারকে দেওয়া প্রতিবেদনে এই অনুরোধ জানিয়েছে। প্রতিবেদনে তারা বলেছে, এখনই সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় তারা অন্তর্ভুক্ত করবে না। তবে রামপাল প্রকল্প বাতিলসহ ইউনেসকোর সুপারিশ মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ২০১৭ সালের বিশ্ব ঐতিহ্য কমিশনের সভায় এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তারা জানিয়েছে।

ইউনেসকোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রামপাল প্রকল্পের পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা প্রতিবেদন (ইআইএ), প্রকল্পের নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাওয়ার কোম্পানির বক্তব্য এবং দরপত্রের নথির মধ্যে বেশ কিছু অসংগতি পাওয়া গেছে। প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশ সফরের সময় সীমিতসংখ্যক বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় জনগণের সঙ্গে কথা বলার যে সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তা কোম্পানির লোকেরা সংগঠিত করেছে।

জানতে চাইলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘ইউনেসকোর প্রতিবেদনে শুধু রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিষয়ে নয়, সুন্দরবন বিষয়ে আরও অনেক পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এসব পরামর্শ মানা বাস্তবসম্মত কি না, তা ভেবে দেখার ব্যাপার আছে। তবে ইউনেসকো যেসব পরামর্শ দিয়েছে, তার উত্তর আমরা দেব। তারপরও তারা যদি একই সুপারিশ করে, তখন তা ভেবে দেখা যেতে পারে। তবে আপাতত রামপালের কাজ বন্ধ হচ্ছে না।’
তবে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব আনু মুহাম্মদ  বলেন, ‘আমরা এত দিন ধরে রামপাল নিয়ে যে বক্তব্য দিয়ে আসছি, তা যে বিজ্ঞান ও যুক্তিসম্মত তা ইউনেসকোর প্রতিবেদনে প্রমাণিত হলো। সরকার কীভাবে ইউনেসকোর প্রতিবেদনের জবাব দেবে, তার উপায় না খুঁজে বরং কীভাবে এবং কত দ্রুত প্রকল্পটি বাতিল করা যাবে, সেই উপায় বের করে দ্রুত তা সম্পাদন করা উচিত।’

রামপাল প্রকল্প বাতিল করার যৌক্তিকতা তুলে ধরতে ইউনেসকো চারটি ঝুঁকির কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে। ঝুঁকিগুলো হচ্ছে বায়ুদূষণ, পানিদূষণ, জাহাজ চলাচল বেড়ে যাওয়া এবং প্রকল্প এলাকায় শিল্পকারখানা ও অবকাঠামো নির্মিত হলে পুঞ্জীভূত দূষণ।

এ ছাড়া রামপালের জন্য যে পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা করা হয়েছে, তা সঠিকভাবে হয়নি মন্তব্য করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুন্দরবনের সম্ভাব্য ক্ষতি মোকাবিলায় বিদ্যুৎ প্রকল্পটিতে বাজারে সহজলভ্য ও সবচেয়ে ভালো প্রযুক্তি আনা হচ্ছে না। সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক মানও বজায় রাখা হচ্ছে না।
রামপালে নির্মিতব্য ১৩২০ মেগাওয়াট মৈত্রী সুপার থার্মাল বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সুন্দরবনের বিশ্ব ঐতিহ্য এলাকা থেকে ৬৫ কিলোমিটার ও মূল সুন্দরবনের ১৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। বিদ্যুৎ প্রকল্পের কয়লার ছাই বাতাসে মিশে সুন্দরবনে দূষণ ঘটাবে। বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে নির্গত ছাইসহ দূষিত পানি বনের নদীতে পড়েও দূষণ ঘটাবে।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক আইনুন নিশাত এ বিষয়ে বলেন, রামপাল প্রকল্পের ইআইএ (পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা) প্রতিবেদনে সুন্দরবনের যেসব ঝুঁকির কথা বলা হয়েছে, তা উন্নত প্রযুক্তি দিয়ে মোকাবিলার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এসব প্রযুক্তি সুন্দরবনের ক্ষতি আদৌ কমাতে পারবে কি না, আর এসব প্রযুক্তি দীর্ঘ মেয়াদে কার্যকর থাকবে কি না তা নিয়েও প্রশ্ন আছে।

Check Also

2466

এককভাবে সনদ দেয়ার ক্ষমতা চায় শিক্ষা মন্ত্রণাল

অনলাইন ডেস্ক: স্বাস্থ্য ও পরি বার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একগুঁয়েমির কারণে চাহিদা থাকলেও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রবেশ করতে ...