Tuesday , December 6 2016
Home / সারা বাংলা / খুলনা বিভাগ / যশোর জেলা পরিষদ নির্বাচনঃ ১০ নেতার মধ্যে কে পাবে মনোনয়ন পত্র
প্রকাশঃ 24 Nov, 2016, Thursday 1:03 PM || অনলাইন সংস্করণ
zila-porishad-pic

যশোর জেলা পরিষদ নির্বাচনঃ ১০ নেতার মধ্যে কে পাবে মনোনয়ন পত্র

শাওন চৌধুরী, যশোরঃ আগামী ২৮ ডিসেম্বর দেশের ৬১ জেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য গত রবিবার নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।

আজ ২৪ শে নভেম্বর বৃহস্পতিবার দলীয় সভানেত্রীর সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় স্থানীয় সরকার এর মনোনয়ন বোর্ডের সভায় প্রার্থী চুড়ান্ত করনের সভা অনুষ্ঠিত হবে। আজই দলীয় সমর্থনের টিকিট প্রদান করবেন বলে জানা গেছে।

যশোর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে আওয়ামী লীগের ১০ নেতা দলের কাছে মনোনয়ন চেয়ে আবেদন করেছেন। বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে তারা কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ডের কাছে আবেদন করেছেন। তবে কে পাবেন দলের টিকিট তা জানতে অপেক্ষা আর মাত্র কিছু সময়। তবে অনুন্ধানে জানা গেছে, দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী আওয়ামী লীগের ১০ নেতার মধ্যে এখন অবধি মনোনয়ন দৌঁড়ে সবথেকে এগিয়ে আছেন যশোর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিত কুমার নাথ ।

এ পদে নির্বাচন করতে যশোরের একাধিক নেতা অনেক আগে থেকে মাঠে থাকলেও প্রকাশ্যে এসেছে আওয়ামী লীগের এই ১০ নেতা। আর বিএনপি এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। ফলে বিএনপি’র কোনো নেতার নাম শোনা যায়নি।

সূত্র মতে, বর্তমান জেলা পরিষদের প্রশাসক শাহ হাদীউজ্জামান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন, সহ-সভাপতি সাইফুজ্জামান পিকুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ, মোহাম্মদ আলী রায়হান, সাংগঠনিক সম্পাদক মীর জহুরুল ইসলাম, যশোর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিত কুমার নাথ, প্রয়াত জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলী রেজা রাজুর স্ত্রী ফিরোজা রেজা, অভয়নগরের আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রাজেক আহম্মেদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. শরীফ আব্দুর রাকিব দলের মনোনয়ন চেয়ে আবেদন করেছেন বলে জানা যায়।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বলেন, আমি জেলা পরিষদের নির্বাচন করতে চাই। এজন্য দলীয় মনোনয়ন বোর্ডের কাছে মনোনয়নের জন্য আবেদন করেছি। যদি মনোনয়ন পাই আর জয়ী হতে পারি, তাহলে জেলার উন্নয়নে ভূমিকা রাখবো।

মনোনয়ন প্রত্যাশী মোহাম্মদ আলী রায়হান জানান, তিনি চেয়ারম্যান পদে দলের কাছে মনোনয়ন চেয়ে আবেদন করেছেন। দল মনোনয়ন দিলে তিনি নির্বাচন করবেন।

আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী যশোর সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোহিত কুমার নাথ এ বিষয়ে বলেন, দলীয় মনোনয়ন পেলে তিনি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে লড়বেন। যশোর সদরের এমপিসহ জেলার আরো ২/৩ জন এমপি ও জেলা উপজেলা আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মীরা তাকে বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন যাতে তিনি এ পদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা যদি তাকে মনোনয়ন দেন তাহলে তিনি এই পদে লড়বেন বলে জানিয়েছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায় , মোহিত কুমার নাথ ১৯৬৮ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন। এমনকি রাজনৈতিক মামলায় জেল ও খেটেছেন কয়েকবার। দীর্ঘ ৪৮ বছর ধরে যশোরে আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িয়ে আছেন ওতপ্রোতভাবে। ১৯৬৮ সালে ছাত্রলীগে যোগদানের পর ১৯৬৯ সালে গণ-অভ্যূত্থানে সক্রিয় অংশগ্রহনের মধ্যদিয়ে যশোরের রাজনীতিতে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠা মোহিত কুমার নাথ একে একে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের যশোর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক, জেলা কমিটির সদস্য এবং ২০০৪ সাল থেকে অদ্যবধি যশোর সদর উপজেলার সভাপতি হিসাবে সুনামের সহিত দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি ১টি কলেজ ও ২টি স্কুলের সভাপতিসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতি ও ক্রীড়া সংগঠনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছেন। এছাড়া বিভিন্ন সময় যশোর জেলায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন ১৯৯৮ সালে শার্শা, ঝিকরগাছা, চৌগাছা উপজেলার বন্যায় কবলিত মানুষের মাঝে ব্যাপকভাবে ত্রান বিতরণ এবং উদ্ধার তৎপরতা চালান। এবছর মনিরামপুর, কেশবপুর ও অভয়নগরের বিভিন্ন উপজেলার ব্যাপক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে একইভাবে ত্রাণ তৎপরতা করে এবং সবসময় তাদের খোঁজ খবর নেন । ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী নির্বাচন পরবর্তি সময় অভয়নগর মালোপাড়া এলাকায় সহিংস ঘটনার পর তাৎক্ষনিকভাবে তাদের পাশে গিয়ে দাড়ান এবং ব্যাপক ত্রান তৎপরতা করেন তিনি । এসব উপজেলার মানুষের কাছে অতি প্রিয় ও পরিচিত মুখ হিসাবে পরিচিত মোহিত কুমার নাথ। এ সকল বিষয় বিশেষ বিবেচনায় রেখে মনোনয়ন দেওয়ার ব্যাপারে কেন্দ্রীয় অনেক নেতা তার পক্ষে সুপারিশ করেছেন বলে জানা গেছে। যশোর আওয়ামী লীগ ও তৃণমুলের নেতাকর্মীসহ সমর্থকরা মনে করেন তার মতো একজন ত্যাগি এবং দলের জন্য নিবেদিত ক্লিন ইমেজের এই নেতাকে দল অবশ্যই মূল্যায়ন করবে। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের দলীয় মনোনয়ন ও দায়ীত্ব পেলে যশোর জেলার ব্যাপক উন্নতি হবে।
এদিকে বিএনপি কেন্দ্রীয়ভাবে জেলা পরিষদ নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এজন্য যশোরেও তাদের নেতা-কর্মীদের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে তেমন আগ্রহ নেই।

দেশে প্রথমবারের মতো স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচনে জেলার ৮টি উপজেলা, ৮টি পৌরসভা ও ৯৩ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা গোপন ব্যালটে একজন চেয়ারম্যান, ১৫ সাধারণ ওয়ার্ড সদস্য ও ৫ জন সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ড সদস্য নির্বাচিত করবেন। ওয়ার্ড সীমানা নির্ধারণ করে গেজেটও প্রকাশ করা হয়েছে। এ নির্বাচন করার জন্যে ৬ অক্টোবর আইন সংশোধন করে সংসদে বিল পাশ হয়। ২০০০ সালে জেলা পরিষদ আইনে পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সাময়িক বরখাস্তের বিধান ছিল না। নতুন আইনে চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিাযোগপত্র গৃহিত হওয়ার সাময়িক বরখাস্তের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া আগের আইনে উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদের জেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট দেয়ার সুযোগ ছিল না। এখন তারা ভোট দিতে পারবেন।

যশোর জেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ১০ আগস্ট স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে যশোর জেলা প্রশাসক ড. হুমায়ুন কবীরকে জেলা পরিষদের ১৫টি ওয়ার্ডের সীমানা নির্ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেই নির্দেশনা ও জেলা পরিষদ বিধিমালা ২০১৬ এর ধারা ৪ এর (৩) অনুযায়ী জেলার ৯৩টি ইউনিয়ন ও ৮টি পৌরসভাকে নিয়ে ৯টি ওয়ার্ড গঠন করা হয়।
জেলা পরিষদের ১নং ওয়ার্ডে রয়েছে শার্শা উপজেলার গোগা ইউনিয়ন, কয়রা ইউনিয়ন, বাগআঁচড়া ইউনিয়ন, পুটখালী ইউনিয়ন, উলাশী ইউনিয়ন, বেনাপোল ইউনিয়ন ও বেনাপোল পৌরসভা। বাহাদুরপুর, শার্শা, লক্ষণপুর, নিজামপুর, ডিহি এবং ঝিকরগাছার শিমুলিয়া ও নাভারণ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত করা হয়েছে ২নং ওয়ার্ড। ৩নং ওয়ার্ডে রয়েছে ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী, পানিসরা, নির্বাসখোলা, হাজিরবাগ ও ঝিকরগাছা ইউনিয়ন এবং ঝিকরগাছা পৌরসভা। ঝিকরগাছা ও চৌগাছার ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হয়েছে জেলা পরিষদের ৪নং ওয়ার্ড। এর মধ্যে রয়েছে মাগুরা, গঙ্গানন্দপুর, পাশাপোল, ধুলিয়ানি, সুখপুকুরিয়া, স্বরূপদাহ ও নারায়ণপুর ইউনিয়ন। চৌগাছার পাতিবিলা, হাকিমপুর, জগদীশপুর, সিংহঝুলি ও চৌগাছা ইউনিয়ন এবং চৌগাছা পৌরসভা নিয়ে গঠন করা হয়েছে ৫নং ওয়ার্ড। ৬নং ওয়ার্ডে রয়েছে যশোর সদর উপজেলার ফুলসারা, চুড়ামনকাটি, হৈবতপুর, কাশিমপুর, লেবুতলা, ইছালী ও উপশহর ইউনিয়ন। একই উপজেলার ফতেপুর, নওয়াপাড়া, দেয়াড়া, আরবপুর, চাঁচড়া ইউনিয়ন ও যশোর পৌরসভা আছে ৭নং ওয়ার্ডে। ৮নং ওয়ার্ডে আছে বাঘারপাড়ার জহুরপুর, বন্দবিলা, রায়পুর, নারিকেলবাড়িয়া, ধলগ্রাম, দরাজহাট ইউনিয়ন ও বাঘারপাড়া পৌরসভা। ৯নং ওয়ার্ডে আছে যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া, কচুয়া, রামনগর, নরেন্দ্রপুর এবং বাঘারপাড়ার দোহাকুলা, বাসুয়াড়ী ও জামদিয়া ইউনিয়ন।

১০নং ওয়ার্ড গঠন করা হয়েছে অভয়নগরের প্রেমবাগ, শ্রীধরপুর, চলিশিয়া, সিদ্ধিপাশা, শুভরাড়া ইউনিয়ন ও নওয়াপাড়া পৌরসভা নিয়ে। ১১নং ওয়ার্ডে আছে মণিরামপুরের কুলটিয়া, হরিদাসকাটি, মনোহরপুর ও নেহালপুর এবং অভয়নগরের বাগুটিয়া, সুন্দলী ও পায়রা ইউনিয়ন। মণিরামপুরের ঢাকুরিয়া, দূর্বাডাঙ্গা, খানপুর, শ্যামকুড়, মণিরামপুর সদর ইউনিয়ন ও মণিরামপুর পৌরসভা নিয়ে গঠন করা হয়েছে ১২নং ওয়ার্ড। ১৩নং ওয়ার্ডভুক্ত হয়েছে মণিরামপুরের ভোজগাতি, কাশিমপুর, রোহিতা, হরিহরনগর, খেদাপাড়া, ঝাঁপা ও চালুয়াহাটি ইউনিয়ন। ১৪নং ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া মণিরামপুরের মশ্মিমনগর কেশবপুরের ত্রিমোহনী, মজিদপুর, কেশবপুর সদর ইউনিয়ন এবং কেশবপুর পৌরসভা। এ ছাড়া কেশবপুরের সাতবাড়িয়া, মঙ্গলকোট, পাঁজিয়া, সুফলাকাটি, গৌরীঘোনা, হাসানপুর ও বিদ্যানন্দকাটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠন করা হয়েছে যশোর জেলা পরিষদের ১৫ নং ওয়ার্ড।

Check Also

atok

এককেজি হিরোইন ও অস্ত্রসহ হাঁস লিটনকে আটক করেছে পুলিশ।

শাওন,যশোর: যশোরে একাধিক মামলার আসামী লিটন ওরফে হাঁস লিটন (৩৬)কে এক কেজি হিরোইন ,একটি পাইপগান,একটি ...