Saturday , December 10 2016
সদ্য প্রাপ্ত
Home / অন্যান্য / “ভ্রমণের জন্য ঘুরে আসুন রুপের রাণী রাঙ্গামাটিতে”
প্রকাশঃ 22 Nov, 2016, Tuesday 3:30 PM || অনলাইন সংস্করণ
rngmathi

“ভ্রমণের জন্য ঘুরে আসুন রুপের রাণী রাঙ্গামাটিতে”

সুপ্রিয় চাকমা শুভ,  রাঙ্গামাটি জেলা প্রতিনিধি: বাংলাদেশের অন্যতম প্রাকৃতিক সৌন্ধর্য্য মন্ডিত পর্যটন নগরী হচ্ছে রাঙ্গামাটি। চট্রগ্রাম থেকে রাঙ্গামাটি ৭৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থান ।  দেশের অন্যতম জনপ্রিয় স্থান এই রাঙ্গামাটি। অপরুপ সৌন্ধর্য্য ও বিস্তীর্ণ জলরাশি বেস্তিত এই পর্যটন নগরী।  তাই বাংলাদেশের রুপের রানী হিসেবে এটি সকলের মাঝে পরিচিত। রাঙ্গামাটির পর্যটন গুলোর নৈসর্গিক প্রাকৃতিক রুপের জন্য এটি রুপের রানী হিসেবে পরিচিতি বহন করে। রাঙ্গামাটির এই পর্যটন নগরীতে  রয়েছে ৩৩৫ ফুট দীর্ঘ ৮ ফুট প্রশস্ত এবং উভয় পাশে টানা দ্বারাবেষ্টিত মনোহরা ঝুলন্ত সেতু। এ সেতু ইতোমধ্যে  ‘’সিম্বল অব রাঙ্গামাটি’’  হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।   যা পর্যটকদের গুরুত্বপূর্ণ স্থান  ও আকর্ষণ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের পার্বত্য নগরী রাঙ্গামাটি শহরের কাপ্তাই হ্রদের কর্ণফুলী নদীর কোল ঘেঁষে ১৯৮৬ সালে এটি  ‘’পর্যটন হোলিডে কমপ্লেক্স’’ নামে গড়ে উঠে। পর্যটকদের অন্যতম স্থান হিসেবে পরিচিত এই রুপের নগরী। এখানে রয়েছে মনোরম ‘পর্যটন মোটেল’। মোটেল এলাকা থেকে দেখা যায় রাঙ্গামাটির অপরুপ প্রাকৃতিক সৌন্ধর্য্য কাপ্তাই হ্রদে  বিস্তীর্ণ জলরাশি আর প্রাকৃতিক মনোরম পরিবেশ।  শত শত ভ্রমন পিপাসু পর্যটকদের মিলনমেলা। পর্যটক, দোকানদার, মোটেলে ফিরে আসে আন্দনদের হাসি।

রাঙ্গামাটির এই পর্যটনে প্রতিদিন ভিন্ন শ্রেণী, ভিন্ন ধর্মের লোক, ভিন্ন পেশাজীবীদদের অবস্থান লক্ষ্য করা যায়।  বিশেষ করে এই শীতের সময়ে পর্যটকরা আসে কিছু সময় ব্যায় করতে । এই ঝুলন্ত সেতুটি দেখতে প্রতিবছর প্রচুর পর্যটক রাঙ্গামাটিতে আসেন।  রাঙ্গামাটি শহর থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরে ঝুলন্ত সেতু অবস্থিত। সেতুর পাশে রয়েছে রাত্রি যাপনের জন্য সুরক্ষিত “হলিডে কমপ্লেক্সে”।

এছাড়া মাত্র ২০ টাকার টিকেট কিনে  পর্যটন ভিতরের সব স্থান বিশেষ করে ঝুলন্ত সেতুতে আনন্দময় ঘনমুহূর্থ কাটাতে পারেন। যারা নব দম্পতি তাদের  হানিমুনের জন্য রয়েছে পর্যটন ট্রাইব্যাল হানিমুন কটেজ। বিবাহিত জীবন স্মৃতির পাতায় রাখা যাবে এই ট্রাইব্যাল হানিমুন কটেজে এসে। এছাড়া  পাহাড়িদের ঐতিহ্যবাহী  পোশাক ও বিভিন্ন সামগ্রী কিনতে বস্ত্র ও হস্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান “বনানী টেক্সটাইলে ”  আপনার আছে বিভিন্ন ধরনের আকর্ষনীয় অনেক কিছু।  সেখান থেকে মনের মত কিছু কিনে স্মৃতির পাতায় রাখতে পারেন।

এছাড়া এখানে পর্যটকদের জন্য   ঝুলন্ত সেতু বাদেও  রয়েছে সুবলং ঝর্ণা, চাকমা রাজ বাড়ি, রাঙ্গামাটি ডিসি বাংলো পর্যটন কেন্দ্র, টুকটুক ভিলেজ, পেদা টিংটিং রেস্টুরেন্ট,  কাপ্তাই লেক, ও বৌদ্ধদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ তীর্থস্থান রাঙ্গামাটি রাজবন বিহার প্রাঙ্গন, উপজাতীয় জাদুঘর, কাপ্তাই হাইড্রো ইলেক্ট্রিক প্রজেক্ট, কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
file242
পিকনিক স্পটে যাওয়ার জন্য সুরক্ষিত স্পীড বোট ও দেশীয় নৌ-যান রয়েছে।
পর্যটন কেন্দ্র থেকে আপনি স্পীড বোট, ট্যুরিস্ট বোট ভাড়া করে সারাদিন কাপ্তাই লেক সহ অন্যান্যতে ঘুরতে পারেন। চারদিকে সবুজ বননী, আশে-পাশে পাহাড় আর পাহাড়। যে দিকে তাকাবেন দেখবেন ঘন কুয়াশার আড়ালে ছোট বড় দ্বীপপুঞ্জ  ও পাহাড়। পাহাড় থেকে উঠে দেখতে পাবেন পুরো রাঙ্গামাটি।  ইচ্ছে করলে যেতে পারেন বাংলাদেশের মধ্যে অন্যতম উচু পাহাড় “ফুরমোন চুগ” নামক স্থানে। ফুরমোন পাহাড়ে উঠলে মনে হবে এ যেন এক অপরুপ সৌন্ধর্য্য।  রাঙ্গামাটি যেন মধুর সুরে ডাক দিচ্ছে, আর রাঙ্গামাটি যেন আপনার পাশে আছে এই রুপ  আসতে পারেন রাঙ্গামাটির অন্যতম কাঁচামাল বাজার বনরুপা বাজারে। বনরুপা বাজার থেকেও পাওয়া যাবে সুবলং ঝর্ণা, পেদা টিং টিং, টুকটুক ভিলেজ, চাংপাং সহ কাপ্তাই হ্রদে  ঘুড়ে আসার স্পীড বোট, ট্যুরিস্ট বোট। যা বনরুপা থেকে সুবলং ঝর্ণাতে যাওয়ার জন্য ২ হাজার বা ১৮ শত টাকা দিয়ে যেতে পারেন। স্পীড বোট বা ট্যুরিস্ট বোটের প্রয়োজনে যেতে পারেন বনরুপা সমতা ঘাটের উপজাতীয় টেম্পু বোট মালিক সমিতি লিঃ অফিসে। সেখানে পাবেন বিভিন্ন ধরনের পর্যটক বোট।
dsc_0122
নৈসর্গিক সৌন্দর্যের এক অপার লীলাভূমি রাঙ্গামাটিতে দেখতে পারেন চাকমাদের ঐতিহ্যবাহী জীবন সংস্কৃতি। চাকমাদের খাদ্য,পিঠা, পোশাক-পরিচ্ছেদ,ধর্ম ও বাঙ্গালী জাতির সাথে আপামার মিলন মেলা।
কাপ্তাই হ্রদে কাপ্তাই বাঁধ নির্মানের ফলে হাজার হাজার মানুষ কাপ্তাই হ্রদে মৎস্য আহোরন করে জীবিকা নির্বাহ করে চলছে। কর্ণফুলী নদীতে বাঁধ নির্মানের ফলে সৃষ্টি হয় সুবিশাল কাপ্তাই হ্রদ। আর এই হ্রদ থেকে উপভোগ করতে পারেন  সুস্বাধু মাছের স্বাদ। বিশাল জলরাশিতে মাছ ধরে অনেকটা সময় অতিবাহিত করা যেতে পারে। দেখবেন নদীর মাঝখানে ও নদীর পাড়ে ৮-১০ জন বিশিষ্ট একটি বিশাল জাল নিয়ে মাছের দলকে ঘেরাও করে শিকারের ব্যাবস্থা।  আর সেই জন্য কাপ্তাই হ্রদ সকলের মন কেড়ে নেয়। ভ্রমন পিপাসু পর্যটকরা প্রতিবছর এসময় কাটাতে আসেন এই জলরাশির হ্রদে। উপভোগ করতে আসে পাহাড়ে পাহাড়ে ঘুরে বেড়ানো কুয়াশার কনকন শব্দ। হালকা হালকা শিশিরের ফোঁটা ও পাহাড়ি  মানুষের শীতে কাঁপানো, রোদ পোহানো ইত্যাদি গুলো যেন মনোমুগ্ধকর।

Check Also

kejor-ros

খেজুর গাছ ও রস কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে !

বিশেষ প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের বিভিন্ন গ্রামে এক সময় সারি সারি খেজুর গাছ ছিল। এখন সে রকম ...