Friday , December 9 2016
সদ্য প্রাপ্ত
Home / অন্যান্য / বিশ্বের সবচেয়ে ভদ্র মানুষের দেশ
প্রকাশঃ 10 Oct, 2016, Monday 4:23 PM || অনলাইন সংস্করণ
japan

বিশ্বের সবচেয়ে ভদ্র মানুষের দেশ

প্রজন্ম ডেস্কঃ এশিয়ার দেশ জাপান সম্পর্কে যারা জানেন, তারা আরও একটি বিষয় জানেন যে এই দেশটিকে বিশ্বের ‘সবচেয়ে ভদ্র মানুষের দেশ’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। তাদের এই খেতাবটির পেছনে বাস্তবতাও আছে। জাপানিদের মতো নম্র ও ভদ্র জাতি পৃথিবীর আর কোথাও নেই। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি আর শিল্পের অগ্রগতির পাশাপাশি প্রচণ্ড বিনয়, পরোপকার ও দায়িত্বশীলতার বিষয়টিও ধরে রেখেছে সূর্যোদয়ের এই দেশটি।

প্রায় ১২৬ মিলিয়ন জনসংখ্যা সংবলিত পূর্ব এশিয়ার একটি দ্বীপ রাষ্ট্র জাপান। জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের ১০ম বৃহত্তম রাষ্ট্র এটি। আর উন্নতির সূচকে জাপানের অবস্থান দ্বিতীয়। এসব কিছু ছাপিয়ে জাপানের বড় একটি অর্জন হলো- তারা পৃথিবীর সবচেয়ে নম্র ও ভদ্র জাতি। শুধু তাই নয়; একে অপরকে সাহায্য করার জন্য সব সময় প্রস্তুত থাকেন জাপানিরা। অধিকাংশ জাপানি নির্দিষ্ট কোনো ধর্মে বিশ্বাস না করলেও ধর্মের মূল বিষয়গুলো তারা তাদের প্রাত্যহিক জীবনে ঠিকই ধারণ করেন।BGCBTR Woman refusing a giftএই দ্বীপ রাষ্ট্রটির মানুষের আরেকটি স্বভাব, তারা নিরিবিলি থাকতে পছন্দ করেন। বাসে ভ্রমণের সময় দেখা যায়, পাশের সিটে বসতে যাওয়া ব্যক্তিটি মাথা নিচু আগে থেকে বসে থাকা ব্যক্তির অনুমতি নিয়েই বসবে। যতক্ষণ পর্যন্ত পাশের ব্যক্তিটি নিজ থেকে এসে কথা না বলবে ততক্ষণ দুজনের মধ্যে কোনো আলাপচারিতাই হবে না। এমনকি যানবাহনে চড়ার সময় মুঠোফোনেও একেবারেই কথা বলেন না জাপানিরা। মেসেজ চালাচালি করেন। ট্যাক্সিগুলোতে ঘুরতে গেলেও দেখা যাবে, ট্যাক্সি ড্রাইভার উঠে এসে ট্যাক্সির দরজা খুলে দেবে এবং নামার সময়ও তাই করবে। আপনি যদি খুশি হয়ে ভাড়ার সঙ্গে তাকে বাড়তি কিছু অর্থ দিলেও সে তা কখনোই নেবে না।

প্রতিবেশিদের সঙ্গে জাপানিদের সম্পর্ক অসাধারণ। এক প্রতিবেশির কারণে অন্য প্রতিবেশির কোন ক্ষতি হোক তা তারা কখনোই চাননা। কারো বাসায় দাওয়াতে জাপানিরা কখনোই খালি হাতে যান না। রঙ্গিন কাগজে মুড়িয়ে সুন্দর উপহার নিয়ে যাওয়া জাপানিদের প্রথা। এমনকি কোনো প্রতিবেশি এসে যদি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস যেমন, ডিটারজেন্ট পাউডার, চিনি ইত্যাদি ধার চান তাও তারা সুন্দর কাগজে মুড়িয়ে বাসায় দিয়ে আসেন। ধার পরিশোধের সময়ও একই নিয়ম ওদের।japan2জাপানিদের আরেকটি যে স্বভাব অন্যদের আকর্ষণ করে তা হচ্ছে তাদের পরিপাটি স্বভাব। ছোটবেলা থেকে ছেলেমেয়েদের আদব কায়দা শিক্ষায় জোর দেন অভিভাবকরা। একটি নির্দিষ্ট বয়স পরে বাবা-মা সন্তানদের কোন ব্যাপারেই হস্তক্ষেপ করে না। অবসর সময়ে জাপানিরা ঘুরে বেড়াতে ভালবাসে। দ্বন্দ-সংঘাত ভীষণ অপছন্দ জাপানিদের। যে কাজে সংঘাতের সৃষ্টি হবে তা তারা কখনোই করেন না। প্রয়োজন ছাড়া বাড়তি কথা বলাকে এক ধরনের অভদ্রতা মনে করে জাপানের মানুষ। সব সময়ই তাদের মুখে হাসি হাসি ভাব; কিন্তু কখনোই অট্টহাসিতে ফেটে পড়েন না।

ভাবছেন, কিভাবে শিখলো তারা এই ভদ্রতা? জাপানের ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব অ্যাথনোলজির প্রধান নৃতত্ত্ববিদ কামাকুরা জানান, জাপানিদের এই শিষ্টাচার মূলত এসেছে তাদের চা খাওয়ার উৎসব এবং মার্শাল আর্ট থেকে। এছাড়া তাদের একটি পবিত্র শব্দ আছে, জাপানি ভাষায় বলে ‘ওমোতেনাসি’। এর বাংলা অর্থ ‘আত্মার সেবায় নিয়োজিত’। এই কথা বলে সাহায্য চাইলে কেউ কাউকে ফিরিয়ে দেয় না। জাপানি ভাষায় ‘বুদিসো’ বলে একটি শব্দ আছে। এর মানে, ‘সৈনিকের মতো জীবন-যাপন করা’। এটাকে নৈতিক বিধান হিসেবে মেনে চলে জাপানিরা। এই বিধানকে কাজে লাগিয়েই জীপন পরিচালনা করে জাপানের মানুষ।

Check Also

microsoft-selfie-app

‘মাইক্রোসফট সেলফি’ অ্যাপস আসছে অ্যানড্রয়েডে

অনলাইন ডেস্ক: সেলফি প্রেমিদের কাছে ‘সেলফি’ ছাড়া এখন যেন কোন সেলিব্রেশনই সম্পূর্ণ হয় না। স্মার্টফোনের ...