Saturday , December 10 2016
সদ্য প্রাপ্ত
Home / সারা বাংলা / বরিশাল বিভাগ / প্রতিবন্ধীতাকে জয় করেও জীবন যুদ্ধে পরাজিত জুয়েলের গল্প
প্রকাশঃ 25 Sep, 2016, Sunday 3:39 PM || অনলাইন সংস্করণ
zianagar-jwel-news

প্রতিবন্ধীতাকে জয় করেও জীবন যুদ্ধে পরাজিত জুয়েলের গল্প

আহাদুল ইসলাম শিমুল, জিয়ানগর (পিরোজপুর): প্রতিবন্ধীতাকে জয় করেও জীবন যুদ্ধে পরাজিত এক সৈনিক জাহিদুল ইসলাম। পিরোজপুর জেলার জিয়ানগর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা তিনি। সবাই তাকে জুয়েল বলে ডাকে। জুয়েলের ডান চোখটি নষ্ট। আর বাম পাও অকেজ। বাবা শাহজাহান মোল্লা দীর্ঘ দিন ধরে মানুষিক ভারসম্যহীন হয়ে রয়েছেন। তাই সে পিতার আদর যত্ন থেকেও বঞ্চিত হয়ে পরিবারের হাল ধরার চেষ্টা চালিয়েছেন বার বার।

জাহিদুল ইসলাম জুয়েল জানান, ২০১১ সালে জিয়ানগর ডিগ্রী কলেজ থেকে কৃতিত্বের সাথে বিএসএস পাশ করেন তিনি। তারপরেও প্রতিবন্ধী হয়ে জন্ম গ্রহন করায় তার কাছে জন্মই যেন আজন্ম পাপ বলে মনে হয়। কারন তার বাবাও একজন মানুষিক প্রতিবন্ধী। নিশ্চিত কর্মসংস্থানের অভাবে বাবা, মা, স্ত্রী ও দুই কন্যা সন্তান নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন জুয়েল। তার বড় মেয়ে জুয়েনা’র বয়স ৬ বছর আর ছোট মেয়ে জামিয়া’র বয়স মাত্র ৬ মাস। এই ফুটফুটে সন্তান দুটোকে নিয়েও রয়েছে তার আকাশ কুসুম স্বপ্ন। সকল বাঁধা বিপত্তি ডিঙ্গিয়ে এখন সে যেন অথৈ সাগরের মাঝে হাবুডুবু খাচ্ছে।

এক সময় জুয়েল টিউশনি করিয়ে নিজের পড়ালেখার খরচ যোগিয়েছেন। পাশাপাশি পরিবারকেও দেখতে হচ্ছে সেই কিশোর বয়স থেকেই। বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিবন্ধী কোটায় চাকুরির জন্য আবেদন করেছেন জুয়েল। কিন্তু তার কপালে সরকারি চাকরি এখন পর্যন্ত জোটে নাই। আর মাত্র দুই বছর সময় রয়েছে সরকারি চাকরিতে আবেদন করার জন্য। যদিও বর্তমানে ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নাম মাত্র বেতনে চাকরি করছে সে। বেতনের অর্ধেকের বেশি টাকা চলে যায় যাতায়াত খরচে। বিভিন্ন এলাকায় তাকে কোম্পানির কাজ দেখতে যেতে হয়। আবার পায়ে সমস্যা ও একটি চোখে না দেখার কারনে রাস্তা পারাপার, যানবাহনে ওঠা নামা করতেও মারাত্মক সমস্যায় পড়েন তিনি। সব মিলেয়ে তার জীবন যেন আর চলছে না। তার অচল সংসারটিকে চালিয়ে রাখতে মা সেলাইয়ের কাজ করছেন দিন রাত। একটি অফিসে বসে বসে কাজ করার খুব ইচ্ছা জুয়েলের।

এ বিষয়ে জিয়ানগর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মহিউদ্দিন আহম্মেদ জানান, জাহিদুল ইসলাম জুয়েল প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছে। সে একজন মেধাবী ছাত্র ছিল। পরিবারের দেখা শোনা তাকেই করতে হচ্ছে। একজন শিক্ষিত প্রতিবন্ধী হিসাবে তার একটি ভাল চাকরী আসলেই খুব প্রয়োজন।

Check Also

pitiye

উজিরপুরে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে চার লাখ টাকা ছিনতাই

কল্যান কুমার চন্দ, বরিশাল প্রতিনিধি: উজিরপুর পৌর এলাকায় এক ব্যবসায়ীর পিটিয়ে গুরুতর আহত করে চার ...