Saturday , December 10 2016
সদ্য প্রাপ্ত
Home / সারা বাংলা / ঢাকা বিভাগ / “তীর কাউন্টার” নামক অভিনব বৈদেশীক জুয়ার জ্বরে আক্রান্ত নেত্রকোনা
প্রকাশঃ 24 Nov, 2016, Thursday 12:52 PM || অনলাইন সংস্করণ
teercounter

“তীর কাউন্টার” নামক অভিনব বৈদেশীক জুয়ার জ্বরে আক্রান্ত নেত্রকোনা

রাজিব চৌধুরী, নেত্রকোনাঃ নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর উপজেলার অধিকাংশ বৃদ্ধ-বণীতা অবাধ তথ্য- প্রযুক্তির অপব্যবহারে “তীর কাউন্টার” নামক অভিনব বৈদেশীক জুয়ার জ্বরে আক্রান্ত। অর্থ লোভে পরে কেউ হয়েছে স্বর্বশান্ত-কেউ উঠছে ফোলে-ফেঁপে। ভারতের মেঘালয় রাজ্যর কুলঘেষা বাংলাদেশের প্রান্তিক সীমান্তে অবস্থান নেত্রকোনার সুসং দুর্গাপুরের। মেঘালয় রাজ্য-সরকারের অনুমোদিত এবং মেঘালয়ের রাজধানী শিলং হতে পরিচালিত প্রতি সোমবার থেকে শনিবার ভারতের একটি ওয়েবসাইটে জুয়ার আসর অনুষ্টিত হয়। ভারত সীমান্ত নিকটবর্তী হওয়ার সুবাদে ভারতের বৈধ্য জুয়া সীমান্ত পেড়িয়ে তথ্য-প্রযুক্তির হাত ধরে এসে পৌঁছেছে নেত্রকোনার দুর্গাপুরেও।

পুলিশ সূত্রমতে, উপজেলা সীমান্তবর্তী ইউনিয়ন দুর্গাপুরের কালিকাপুর-ফান্দাতে প্রথম শুরু হয় এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি জুয়া। ঝামেলা বিহীন হওয়ার ধীরে ধীরে এর প্রসার ঘটে দূর্গাপুর উপজেলার আনাচে-কানাচে। অসংখ্য ছাত্র-শিক্ষক-আমলা-কামলা লাভ-লোভ থেকে এই অভিনব জুয়ার ফাঁদে নিজেদের জড়িয়ে ফেলে হয়েছে ফতুর, অন্যদিকে যারা এই অভিনব ফাঁদ পেতেছে তারা রাতারাতি হয়ে উঠছে টাকার কুমির, কারো পৌষ মাস-কারো সর্বনাশ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জুয়ারীর তথ্য মতে, এই জুয়া নির্দিষ্ট দিনগুলো’তে ১ থেকে ১শত নাম্বারের মাঝে অনুষ্টিত হয়। প্রতিদিন বিকাল বাংলাদেশ সময় চার ঘটিকায় উক্ত দিনের বিজয়ী নাম্বার ভারতের একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। জুয়ারীর ভাষ্য মতে এই খেলা ভারতের মেঘালয়ের কুলঘেষা বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলেই চালু এবং জনপ্রিয়। এই জুয়া বন্ধে পুলিশ কি কি পদক্ষেপ নিচ্ছে জানতে চাওয়া হলে, দুর্গাপুর থানার ওসি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) খান হুমায়ুন কবির আমাদের জানান, তীর কাউন্টার খেলার ব্যপারে আমরা কঠোর অবস্তানে। যারা তীর কাউন্টার খেলায় জড়িত তাদের লিষ্ট করে বাড়ি বাড়ি গেয়ে তাদের আটক করে আইনগত ব্যবস্তা নিচ্ছি। প্রতিদিন আমরা আমাদের টহল টিমের মাধ্যমে এই জুয়া নিয়ন্ত্রনের জন্য সকল প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখছি। তিনি আরো জানান, এই অভিনব পন্থার এই জুয়া প্রতিরোধে প্রয়োজন সামাজিক আন্দোলন ও পুলিশকে সঠিক তথ্য প্রদান করা। তীর কাউন্টার খেলার সাথে কোন ব্যক্তি জড়িত থাকার অভিযোগ পেলেও তার বিরুদ্বে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এটা বন্ধের প্রয়োজনে আমরা কাউকেই ছাড় দিবোনা। এ সময় তিনি জুয়াড়িদের ব্যপারে পুলিশকে সঠিক তথ্য দেওয়ার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান। সরজমিনে কথা বলে জানা যায়, দুর্গাপুর বাজারের অধিকাংশ প্রতিষ্টিত-ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর এই জুয়া শুরু হওয়ার পর থেকে ব্যবসা মন্দা যাচ্ছে। এক কনফেকশনারী দোকানদার জানান, ১ টাকায় ৮০ টাকা পাওয়ার লোভে কেও কেনাকাটা করে না, সবাই বিকাল ৪ টা পর্যন্ত অপেক্ষা করে, কারও ভাগ্য- দেবতা সু-প্রসন্ন হয় আর কারও ভাগ্য-দেবতা হয় বিরাজভাজন। আত্রাখালী মোড়ের সামান্য টি-স্টল ব্যবসায়ী জানান তার এই ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্টান বন্ধ করে দিতে চাইছে, তার ভাষায় সারাদিন দোকান খোলে যে টাকার কাঠ পুড়িয়ে,চিনি, দুধ,চা-পাতায় চা তৈরি করে,তা দিন শেষেও বিক্রি হয়না,আগে যেখানে সে প্রতিদিন ৪/৫ শত কাপ চা বিক্রি করতো সেখানে আজকাল ৫০/১০০ কাপ চা বিক্রি হয় না, এই অবস্থায় তার সংসার চালাতে বেগ পেতে হচ্ছে, এভাবে চলতে থাকলে পরিবার-পরিজন নিয়ে সে কি করবে ভেবে পাচ্ছে না। এই খেলায় অনেকেই স্বর্বশান্ত, হারিয়েছে তার প্রতিষ্টান। এখন ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে উদাও হয়ে আছে। এই প্রযুক্তির এমন অপব্যবহারের মাধ্যমে সীমান্তবর্তী এলাকা দূর্গাপুরে যা ঘটছে তাতে নাগরিক সমাজ হতাশায় ভূগছে। কেউ কেউ বলছে এই জুয়ার নামে আমাদের দেশের অর্থ সীমান্ত পথ গড়িয়ে পাচার হয়ে যাচ্ছে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিরুপ প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করছেন অনেকেই। এহেন অভিনব তীর কাউন্টার নামক জুয়া বন্ধে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনায় প্রহর গুনছে দূর্গাপুরবাসী।

Check Also

anol-bishas

বি-বাড়িয়ার শিশু অনল এর চিকিৎসা অর্থের অভাবে বন্ধ, তবুও সে বাঁচতে চায় সুন্দর পৃথিবীতে 

মোঃ মাইন উদ্দিন, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ  ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৩য় শ্রেণীতে পড়ুয়া ৯বছরের শিশু অনল বিশ্বাস এর ...