Friday , December 9 2016
সদ্য প্রাপ্ত
Home / Slider / তাজরীন এর আগুন নিভেগেলেও ৪ বছরে নিভেনি অনেক ক্ষতিগ্রস্তদের আগুন
প্রকাশঃ 24 Nov, 2016, Thursday 6:47 AM || অনলাইন সংস্করণ
2012-11-25-12-00-21-50b208554c113-4-1

তাজরীন এর আগুন নিভেগেলেও ৪ বছরে নিভেনি অনেক ক্ষতিগ্রস্তদের আগুন

সাগর, সাভার (ঢাকা): আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে তাজরীন পোশাক কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের চার বছর আজ। ২০১২ সালের এই দিনে ভয়াবহ সেই অগ্নিকান্ডে দগ্ধ হয়ে ১১২ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়।তবে আজ চার বছর পর মৃত্যুর সংখ্যা দারিয়েছে ১১৫ জন।আহত হন ৩০০ জনের বেশি শ্রমিক। ঘটনার চার বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো ক্ষতিপূরণ পাননি বলে অভিযোগ ক্ষতিগ্রস্ত অনেকের।

গত চার বছরে চিকিৎসার অভাবে সুমাইয়া, আমেনা ও শাহনাজ নামের আরো তিন জন মারা যায়। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দারায় ১১৫ জন। এ ঘটনায় আহত আরো বেশ কয়েক জন বিনা চিকিৎসায় ভুকছেন।

২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর, সাভারের আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় তাজরীন ফ্যাশন পোশাক কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। সেদিন কারখানার দুইতলা থেকে পাঁচতলা পর্যন্ত এক হাজার শ্রমিক কাজ করছিলেন। কারখানার নিচতলার গুদামে আগুন লেগে তা দ্রুত ওপর দিকে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে পুড়ে মারা যান ১১২ জন শ্রমিক। আহত হন তিন শ’রও বেশি শ্রমিক।

চার বছর পেরিয়ে গেলেও হতাহত অনেক শ্রমিকের পরিবার এখনো সরকার বা বিজিএমই’র পক্ষ থেকে কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি। অনেকেই শুধুই চিকিৎসার খরচ পেয়েছেন। কেউ আবার পেয়েছেন নামমাত্র ক্ষতিপূরণ। চার বছরেও হতাহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ না দেওয়ার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শ্রমিক নেতারা।

গত চার বছরে নিহতদের পরিবার কিছু ক্ষতিপূরণ পেলেও আহত শ্রমিকদের ভাগ্যে যন্ত্রণা আর কষ্ট ছাড়া তেমন কিছুই জোটেনি। দু’মুঠো আহার যোগানোই এখন তাদের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকি চিকিৎসা পর্যন্ত করতে পারছেন না আহত শ্রমিকরা।

সাভারের নিশ্চিন্তপুর এলাকায় অন্তত শ’খানেক তাজরীনের শ্রমিক বসবাস করছেন। তাদের মধ্যে সাহানাজ বেগমের বোন জরিনা বেগম তিনিও তাজরীন পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। তাজরীনের অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ভবনটির তিনতলা থেকে ঝাপিয়ে পরে প্রাণে বেঁচে গেলেও স্বাভাবিক জীবনে ফেরা হয়নি পোশাক শ্রমিক জরিনা বেগমের। পাঁচদিন পর জ্ঞান ফেরার পর প্রাণে বেঁচে গেলেও নিজের বোনকে চিকিৎসার অভাবে গত বছর কোরবানীর ঈদের নয়দিন পর মৃত্যু হয় ছোট বোন শাহনাজ বেগমের। ভবনটির পাঁচ তলায় কাজ করা শাহনাজ বেগম ক্যান্সারে ধুকে ধুকে মরে গিয়ে বেঁচে গেলেও তার অবুঝ দুটি সন্তানের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের চিন্তায় চোখে অন্ধকার দেখেন জরিনা বেগম। তিনি মারা যাওয়ার পর তার ছেলে মেয়ে তার বোন জরিনার কাছে থাকেন। ছেলে নাসিম শেখ তার ইচ্ছা সে পুলিশ হবে আর মেয়ে সাবিনা ইয়াসমিন হতে চায় ডাক্তার।

এ ঘটনায় গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাংগঠনিক সম্পাদক এস খায়রুল মামুন মিন্টু বলেন ,চার বছর পূর্ণ হলেও তাজরীন অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরন ও পূনর্বাসন প্রকৃয়া নিশ্চিত করা হয়নি উল্লেখ করে অবিলম্বে ন্যায্য ক্ষতিপূরন প্রদানের দাবী জানিয়েছেন তিনি।

জরিনার মত শতাধিক শ্রমিক যখন হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে লড়াই করছিলো, ততক্ষনে মানুষ পুড়া গন্ধে ভারি হয়ে উঠে ছিল নিশ্চিন্তপুর এলাকা। ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট প্রায় পাঁচ ঘণ্টার চেষ্টায় রাত পৌনে ১২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
তাজরীন অগ্নিকা-ের ঘটনায় নিহত ১১২ শ্রমিকের মধ্যে লাশ শনাক্ত না হওয়ায় ৪৯ জন শ্রমিকের ডিএনএ নমুনা রেখে রাজধানীর জুরাইন কবরস্থানে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়েছিল। পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ দাবি করেছে, সব মিলিয়ে ১০৯ জনের লাশ শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের প্রত্যেকের পরিবারকে সাত লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণের অর্থ দেয়া হয়েছে। এই টাকার বড় অংশই দিয়েছে ক্রেতা প্রতিষ্ঠান লি এন্ড ফাং। এর বাইরে গুরুতর আহতদের চিকিৎসা ছাড়াও ৯০ জনকে এক লাখ টাকা করে দেয়া হয়েছে।

এদিকে আগুন লাগার পর শ্রমিকরা অভিযোগ করেছিল, তারা বের হতে চাইলেও মূল গেইট বন্ধ থাকায় তারা বের হতে পারেননি। ফলে অনেকে পুড়ে মারা গেছেন। ঘটনার চার বছর পার হলেও শ্রমিকদের এই অভিযোগের বিষয়টির কোনো সুরাহা হয়নি। তাজরীনে আগুন কি নিছক দুর্ঘটনা না নাশকতা তাও এখনো পরিষ্কার হয়নি।

২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর সাভারের তাজরীন ফ্যাশনে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনায় এখনো পর্যন্ত এঘটনায় প্রকৃত দায়ী কে তা চিহ্নিত করা যায়নি। শুধুমাত্র কারখানার মালিক দেলোয়ার হোসেনকে গ্রেফতার করে জেলে নেয়া হলেও জামিন পেয়ে তিনি এখন বাইরে রয়েছেন।

Check Also

untitled-1

৮ই ডিসেম্বর সরাইল মুক্ত দিবস

দীপক দেবনাথ (সরাইল, ব্রস্মমনবাড়ীয়া): আজ ৮ই ডিসেম্বর সরাইল মুক্ত দিবস পালিত হয়। ১৯৭১সালের এই দিনে ...