Saturday , December 10 2016
সদ্য প্রাপ্ত
Home / Slider / জাবির পরিবহন খাতে লোপাট লাখ লাখ টাকা
প্রকাশঃ 23 Aug, 2016, Tuesday 2:24 PM || অনলাইন সংস্করণ
JU Bus

জাবির পরিবহন খাতে লোপাট লাখ লাখ টাকা

আরিফুল ইসলাম আরিফ, জাবি প্রতিনিধি: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) পরিবহন খাতে যন্ত্রপাতি কেনার নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ক্রয় কমিটির অনুমোদন ছাড়া নিম্নমানের যন্ত্রপাতি কিনে অতিরিক্ত দাম দেখিয়ে এ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ধরনের অনিয়ম দৃশ্যমান হলেও কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্র প্রকৌশলীর যোগসাজেশে পরিবহন কার্যালয়ের মেকানিকরা ক্রয় কমিটির অনুমোদন ছাড়াই নিম্নমানের যন্ত্রপাতি কিনে অতিরিক্ত দাম দেখিয়ে বিল-ভাউচার তৈরি করেন। একইসঙ্গে তারা গাড়ি মেরামতের ব্যয়ের হিসাবও কয়েকগুণ দেখান। এতে একদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষতি হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। অন্যদিকে যানবাহনে নিম্নমানের যন্ত্রাংশ লাগানোর ফলে তা কয়েক দিনের মধ্যে অকেজো হয়ে যাচ্ছে। আর চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

পরিবহন কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক মোঃ এমদাদুল হক ও অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক ড. খোন্দকার লুৎফুল এলাহী দায়িত্ব নেয়ার পর অবস্থা আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোনো পরিবহনের যন্ত্রপাতি কেনার জন্য একটি কমিটি রয়েছে। কমিটি অনুমোদন দিলে মেকানিকরা যন্ত্রাংশ ক্রয় করে থাকেন। তবে জরুরি প্রয়োজনে খুচরা যন্ত্রপাতি কেনার জন্য প্রতি বছর ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। কিন্তু মেকানিকরা কমিটির অনুমোদন ছাড়া বেশিরভাগ সময় খুচরা যন্ত্রাংশ কিনে থাকেন। এক্ষেত্রে তারা নিম্নমানের যন্ত্রপাতি কিনে বাড়তি দামে বিল-ভাউচার তৈরি করেন। এছাড়া কমিটির পরামর্শ না নিয়ে তাদের পছন্দের দোকান থেকে যন্ত্রাংশ কিনে সেখান থেকে নির্দিষ্ট হারে তারা কমিশন নেন। এ ঘটনার সঙ্গে পরিবহন কার্যালয়ের যন্ত্র প্রকৌশলী মোঃ আবদুল্লাহ সাহরাওয়ার্দী জড়িত রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, নিম্নমানের যন্ত্রপাতি সংযোজনের ফলে বেশিরভাগ যানবাহন অকেজো হয়ে পরিবহন চত্ত্বরে পড়ে আছে। মেরামতের কয়েক দিনের মধ্যে এগুলো আবার ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এসব অচল বাস মেরামতে দ্বিগুণ ব্যয় ধরে ফাইল তৈরি করা হয়। অথচ অল্প ব্যয়েই এসব বাস মেরামত করা সম্ভব। কয়েক মাস আগে অচল তিনটি হিনো বাস সংস্কারে (ইঞ্জিন ওভারহেলিং, ডেন্টিং ও পেন্টিং) ২৭ লাখ টাকা ব্যয় ধরে ভিসি অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম বরাবর পাঠানো হয়। পরে সংশ্লিষ্টরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন ১৮ লাখ টাকায় এ কাজ করানো সম্ভব।

পরিবহন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, যন্ত্রাংশ কেনা ও গাড়ি মেরামত কাজ পর্যবেক্ষণের জন্য পরিবহন কার্যালয়ে দক্ষ যন্ত্র প্রকৌশলী না থাকায় এসব অনিয়ম হচ্ছে। তবে এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে পরিবহন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা এখনও কোন ব্যবস্থা নেননি।

অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে যন্ত্র প্রকৌশলী আবদুল্লাহ সোহরাওয়ার্দী বলেন, খুচরা যন্ত্রপাতি কেনার ক্ষেত্রে সব সময় ক্রয় কমিটিকে জানানো সম্ভব হয় না। এছাড়া বাস মেরামতের জন্য সুনির্দিষ্টভাবে ব্যয় নির্ধারণও সম্ভব হয় না।

পরিবহন কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক মোঃ এমদাদুল হক বলেন, অনিয়মের কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। তবে যার নামে অভিযোগ উঠেছে তাকে দিয়েই আমরা যন্ত্রাংশ কিনিয়ে থাকি। তার বিরুদ্ধে যথাযথ অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

Check Also

dr

শিরোপা জয়ে রাজশাহীর প্রয়োজন ১৬০ রান

র্স্পোর্টস ডেস্ক: বিপিএলের ফাইনালের মহারণে টস হেরে আগে ব্যাট করা ঢাকা ডায়নামাইটস নির্ধারিত ২০ ওভারে ...