Friday , December 9 2016
সদ্য প্রাপ্ত
Home / Slider / চীনের পাশাপাশি ভারতের সঙ্গেও সম্পর্ক রাখতে চায় বাংলাদেশ
প্রকাশঃ 15 Oct, 2016, Saturday 7:18 PM || অনলাইন সংস্করণ
ind_ban_china

চীনের পাশাপাশি ভারতের সঙ্গেও সম্পর্ক রাখতে চায় বাংলাদেশ

ঢাকাঃ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বাংলাদেশের উন্নয়নের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে চীনের পাশাপাশি ভারতের সঙ্গেও সম্পর্ক বজায় রাখার ব্যাপারে গুরুত্ব দিয়েছেন।

আজ (শনিবার) সকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে বিদায় জানিয়ে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা যেমন চীনের সঙ্গে কাজ করছি, আবার আমরা ভারতের সঙ্গেও কাজ করছি। আমাদের সবার সঙ্গেই সম্পর্ক রাখতে হবে। একা আমাদের পক্ষে কোনো কিছুই সম্ভব না।”

তিন দশক পরে চীনের কোনো প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ সফর করলেন। শি’র সফরে তার ‘ওয়ান বেল্ট, ওয়ান রোড’ উদ্যোগে সমর্থন জানিয়েছে বাংলাদেশ। দুই দেশের ‘সর্বাত্মক অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা’র সম্পর্ককে ‘কৌশলগত অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতার’ জায়গায় নিয়ে যেতেও সম্মত হয়েছে দু দেশ।

চীনা প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফরের আগে চীনের গ্লোবাল টাইমসে এক সম্পাদকীয়তে লেখা হয়েছিল, ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হলে তাতে ভারতের ‘ঈর্ষান্বিত’ হওয়ার কিছু নেই এবং শি’র বাংলাদেশ সফরকে ‘নয়া দিল্লির আলিঙ্গন থেকে দক্ষিণ এশিয়ার একটি দেশকে কেড়ে নেয়ার পদক্ষেপ’ হিসেবে দেখলে ভুল হবে।

চীন ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিল না। চীন পাকিস্তানের বন্ধু বা জেনারেল জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বাংলাদেশের সাথে চীনের সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল- এসব কথা আর শোনা যায় নি সরকারের পক্ষ থেকে।

বরং ক্ষমতাসীন দলটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ প্রশংসার সাথেই বলেছেন, “চীন এখন সুপার পাওয়ার। এটা আমাদের মেনে নিতে হবে। আমরা এখন পর্যন্ত দেখছি, তারা গঠনমূলক। চীন নিজেদের উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে আঞ্চলিক উন্নয়নেও সহযোগিতা করতে এগিয়ে এসেছে। এখানে চীনকে নিয়ে আতঙ্কের কোনো কারণ নেই।”

এ প্রসঙ্গে সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ রেডিও তেহরানকে বলেন, “অতীতে কার কী আবস্থান ছিল বা ভাবাদর্শের দিক থেকে কার কী অবস্থান তা বিবেচনায় নিয়ে বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় কূটনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে নেয়া বেশ কঠিন। তাই ব্যবসায়িক ও প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক বিবেচনা করে বাংলাদেশ ও চীনের বর্তমান এ বন্ধুত্বকে দেখতে হবে।”

চীনা প্রেসিডেন্টের এ সফর কতটা সাফল্য বয়ে আনবে- এমন প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ আবু জাফর বলেন, এটা এখুনি বলা না গেলেও বাংলাদেশের সাথে ভারত ও আমেরিকার ঘনিষ্ঠতার মাঝে চীন যে বিশাল অর্থনীতি নিয়ে এগিয়ে এসেছে সেটাই আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

এ প্রসঙ্গে চীনাপন্থি বলে পরিচিত বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এমপি বলেছেন, চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে এ সম্পর্ক কোনো পন্থি বা আদর্শের ভিত্তিতে হয় নি। এটাকে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও আঞ্চলিক যোগাযোগের সম্পর্ক হিসেবে দেখতে হবে। এটা কোনো দলের স্বার্থ নয় বরং বাংলাদেশের সকল মানুষের স্বার্থ হিসেবে দেখতে হবে।

চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং’র এই সফরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ২৭টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে, যার আওতায় বাংলাদেশ চীন থেকে ২১.৫ বিলিয়ন ডলার অর্থ-সহায়তা পেতে যাচ্ছে।

Check Also

untitled-1

৮ই ডিসেম্বর সরাইল মুক্ত দিবস

দীপক দেবনাথ (সরাইল, ব্রস্মমনবাড়ীয়া): আজ ৮ই ডিসেম্বর সরাইল মুক্ত দিবস পালিত হয়। ১৯৭১সালের এই দিনে ...