Tuesday , December 6 2016
Home / Slider / খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে জাবি’র মেডিকেল সেন্টার
প্রকাশঃ 24 Nov, 2016, Thursday 12:58 PM || অনলাইন সংস্করণ
ju-medical-center

খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে জাবি’র মেডিকেল সেন্টার

আরিফুল ইসলাম আরিফ, জাবি প্রতিনিধি: সাম্প্রতিক সময়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্ষেত্রে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগলেও এখন পর্যন্ত কোন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি এখানকার মেডিকেল সেন্টারটিতে। অযত্ন, অবহেলা এবং নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে মেডিকেল সেন্টারটির চিকিৎসাসেবা। প্রায় দুইবছর আগে নতুন ভবন নির্মিত হলেও তেমন বাড়েনি সেবার মান। ডাক্তারের অবহেলা, পর্যাপ্ত ওষুধপত্র ও চিকিৎসা সরঞ্জামাদির অভাবসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত মেডিকেল সেন্টারটি শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মুকর্তা-কর্মচারীদের সুচিকিৎসা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে।মেডিকেল সূত্রে জানা যায়, ১৯৭১ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় দেশের একমাত্র আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারটি প্রথমে আল বেরুণী হলের সিঁড়ির নীচে স্থাপিত হয়। পরে এটি ওই আল বেরুণী হল নির্মাণের সময় ঠিকাদারদের থাকার জন্য নির্মিত রুমে স্থানান্তরিত করা হয়। পরবর্তীতে আরও দুটি রুম তৈরি করে চিকিৎসা কার্যক্রম চলতে থাকে। যেটি বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার নামে পরিচিত।

১৯৭৪ সালে এই মেডিকেলটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫ হাজার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী বসবাস করতেন। বর্তমানে তার সংখ্যা বেড়ে প্রায় ২৫হাজারে দাঁড়িয়েছে। তাঁদের চিকিৎসার জন্য মাত্র ৮ জন স্থায়ী এবং ৭জন পার্টটাইম ডাক্তার ও ৪জন নার্স রয়েছে। রোগীদের জন্য রয়েছে মাত্র তিনটি বেড। মারাত্মক আহতদের জন্য চিকিৎসার কোন সুব্যবস্থা নেই। মুমূর্ষু রোগী পরিবহনের জন্য ৩ টি এ্যাম্বুলেন্স থাকলেও অধিক পুরাতন হওয়ায় অধিকাংশ সময়ই বিকল থাকে ১টি। একটি এ্যাম্বুলেন্স রিকুইজশনে নিয়ে গেলে সেইদিন ইমার্জেন্সি রোগীদের চরম দূর্ভোগ পোহাতে হয়। তাছাড়া এই এ্যাম্বুলেন্সগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাবশালী শিক্ষক-কর্মকর্তা এবং ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতারা বাজার ও ঘোরাঘুরির কাজে ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরো জানা গেছে, ১৯৭৪ সালের ভাঙ্গাচুরা ও পুরাতন যন্ত্রপাতি দিয়ে এখনো কাজ চলছে। এখানে ১টি অনুবীক্ষণ যন্ত্র, ১টি ফটো ইলেকট্রিক কালার মেশিন, ১টি ফ্রিজ ও ১টি হট ইয়ার ওপেন মেশিন রয়েছে। আর স্টেইলেজার মেশিন থাকলেও সেটি নষ্ট অবস্থায় পড়ে আছে। একটি এক্সরে মেশিন শুরুতেই থাকলেও সময়ের ব্যবধানে সেটি আর নেই। অক্সিজেন সিলিন্ডার ৫টি থাকলেও সেগুলো অধিকাংশ সময়ই কাজ করে না। শুরুতেই ১৮ টি টেস্ট করা হলেও যন্ত্রপাতি এবং দক্ষ কারিগরীর অভাবে এখন তা কমে দাড়িয়েছে ১১ টিতে। ফলে এসব যন্ত্রপাতি পুরাতন ও অকার্যকর হয়ে যাওয়ায় টেস্ট রিডিং প্রায়ই ভুল আসে।

এদিকে ডাক্তারদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে থাকার কথা থাকলেও তারা অধিকাংশ সময়ই বাইরে থাকেন। যার কারণে প্রায়ই ডাক্তারের অভাবে ফার্মাসিস্টরা ওষুধ দিয়ে থাকেন। যার ফলে রোগীদের নানা ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভাল ওষুধ দেয়ার কথা থাকলেও অত্যন্ত নিম্নমানের ওষুধ সরবরাহ করা হয়। ক্যাপসুল, ট্যাবলেট, ইনজেকশন, সিরাপ এন্টাসিডসহ মাত্র ১২-১৫ প্রকারের ওষুধ আছে বলে জানা গেছে। ফলে অধিকাংশ ওষুধ শিক্ষার্থীদের বাইরে থেকে কিনতে হয়।

এসকল বিষয়ে মেডিকেল সেন্টারের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ড. মোজেজা জহুরা বলেন, “মেডিকেল সেন্টারে প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বসাকুল্যে ১৫ লক্ষ টাকা প্রদান করে। যা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। এখানে সর্বশেষ ২০০৯ সালে ডাক্তার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আমরা ৪জন পুরুষ ও ২জন মহিলা ডাক্তার নিয়োগসহ নানাবিধ সমস্যা সমাধানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট কতকগুলো সুপারিশ প্রদান করেছি। এসকল সুপারিশ কার্যকর করা হলে মেডিকেল সেন্টারের চেহারা পাল্টে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

Check Also

ফাইল ফটো

নিষ্ঠুর একদলীয় শাসনের চরিত্রগুলো ক্রমশ ফুটে উঠছে: খালেদা জিয়া

অনলাইন ডেস্ক: বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, নিষ্ঠুর কর্তৃত্ববাদী একদলীয় শাসনের চরিত্রগুলো ক্রমশ ফুটে উঠছে ...