Saturday , December 10 2016
সদ্য প্রাপ্ত
Home / সারা বাংলা / ঢাকা বিভাগ / কুলিয়ারচরে দেবর-ভাবীর জমি সংক্রান্ত বিরোধে জীবন গেলো ২৮০টি চারাগাছের
প্রকাশঃ 21 Sep, 2016, Wednesday 4:39 PM || অনলাইন সংস্করণ
tree

কুলিয়ারচরে দেবর-ভাবীর জমি সংক্রান্ত বিরোধে জীবন গেলো ২৮০টি চারাগাছের

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি, মোঃ মাইন উদ্দিনঃ জেলার কুলিয়ারচরে সৎ দেবর ভাবীর মধ্যে জমা-জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে  ফলন জাতিয় গাছসহ ২৮০ টি গাছ কেটে নিয়ে যায় সৎ দেবর মোঃ আলমগীর ও আবু কালাম। ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৯ সেপ্টেম্বর (রবিবার) বিকেল ৫টায় কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের মাটিকাটা গ্রামের জিন্নত আলী ব্যাপারীর বাড়িতে। এ ঘটনায় ভাবী আছমা বেগম বাদী হয়ে সৎ দুই দেবরসহ ৭ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা আরো ৪/৫ জনকে আসামী করে কুলিয়ারচর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছে । এই অভিযোগে উল্লেখিত ব্যাক্তিদের মধ্যে বাদীর দুই সৎ দেবর, মোঃ আলমগীর (৩০) আবু কালাম (৩৫) পিতা মৃত জিন্নত আলী বেপারী। আর অন্যান্যের মধ্যে রয়েছে, হাজী মোঃ মাইন উদ্দিন (৬৫) পিতা মৃত সুন্দর আলী, মোঃ হফিজ উদ্দিন (৫০) পিতা অজ্ঞাত, রুবেল মিয়া (২৬) পিতা হাফিজ উদ্দিন, বকুলা বেগম (৪০) স্বামী হাফিজ উদ্দিন, মবিনা বেগম (৩০) স্বামী আবু কালাম। বাদী তাঁর অভিযোগে উল্লেখ করেন, ঘটনার দিন ও সময়ে এলাকার কিছু স্বার্থবাদী লোকজনের প্ররোচনায় তাঁর দেবর পরিচয় দানকারী মোঃ আলমগীর ও আবু কালাম সহ অভিযোগে উল্লেখিত ব্যক্তিরা বাদী ও বাদীর ছোট দেবর সাহাদাত হোসেন লিটন’র রোপণকৃত দুটি ফলন জাতিয় চারাগাছের বাগান কেটে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয় এবং এসব চারাগুলো বিলে ফেলে দেয়। কর্তনকৃত গাছগুলোর আনমানিক মূল্য ২ লক্ষ ৪০ টাকা হবে বলে দাবী করছেন বাদী আছমা বেগম। এসময় তাঁদেরকে বাধা দিতে চাইলে হামলা কারিরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বাদী পক্ষের লোকজনকে তাড়া করেন। পরে বাদী পক্ষের লোকজন অন্যত্র পালিয়ে গিয়ে জীবন রক্ষা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন বাদী আছমা বেগম। এব্যাপারে সরেজমিনে মাটিকাটা গ্রামে গিয়ে কথা হয় বাদীর পরিবার ও প্রতিবেশী লোকজনের সাথে। এসময় বাদী আছমা বেগম দৈনিক প্রজন্মের এ প্রতিনিধিকে বলেন, আমার শ্বশুর জিন্নাত আলী বেপারী একসময় এদেশের স্বনামধন্য ব্যক্তি ছিলেন। তিনি মারা যাওয়ার সময় আমার স্বামী মোঃ লেয়াকত আলী মেম্বারসহ চার ছেলে ও তিন মেয়ে রেখে যায়। আমার শ্বশুর মারা যাওয়ার কিছুদিন পর আমার স্বামী লেয়াকত আলী মেম্বারও মারা যায়। আবার অতি সম্প্রতি খোকন নামের আমার আরেক দেবর মারা যায়। বর্তমানে আমার দুই দেবর দারগ আলী ও সাহাত হোসেন লিটনসহ তাঁদের তিন বোন জীবিত আছেন। এমতাবস্থায় নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর উপজেলার কমলাকান্দা থেকে আসা আমার সৎ দেবর দাবীদার মোঃ আলমগীর ও আবু কালাম নামের দুজন দীর্ঘদিন যাবত্‍ সম্পত্তি দাবী করে আসছিলেন। কিন্তু তাঁরা আমাদের দেবর কিনা তাও আমাদের জানা নেই। তাঁরা নানা সময় নানা ভাবে আমাদের কাছে সম্পত্তি দাবী করে আসছে এবং এলাকার কিছু লোকের সহযোগীতায় আমাদের উপর মামলা হামলা করে আসছে। অপরদিকে দারগ আলী বলছেন, আমার ছোট ভাই সাহাদাত হোসেন লিটনকে তাঁরা যে কোনো সময় খুন করে ফেলতে পারে। কেননা যারা ২০০’রও বেশি গাছ কেটে ফেলতে পারে, তাঁরা মানুকেও খুন করতে পারে। অন্য দিকে সাহাদাত লিটন বলছেন, তাঁরা যদি আমাদের ভাই হয় তাহলে তাঁদের মায়ের বিয়ের প্রমাণাদি নিয়ে আসুক। কেননা, তাঁরা আমাদের ভাই কিনা তা আমাদের আদও জানা নেই। কিন্তু তাঁরা তা না করে এলাকার কিছু স্বার্থনেষী মহলকে নিয়ে আমাদেরকে নানা ভাবে হয়রানি করে আসছে। এসময় মোঃ আলমগীর ও আবু কালামকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি।

Check Also

train_agun

কালীগঞ্জে ট্রেনে আগুন, আহত ২৬

গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় নোয়াখালীগামী যাত্রীবাহী উপকূল এক্সপ্রেস (৭১২) ট্রেনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার ...