Saturday , December 3 2016
সদ্য প্রাপ্ত
Home / Uncategories / আজ মজলুম জননেতা ভাসানীর ৪০ তম মৃত্যু বার্ষিকী
প্রকাশঃ 17 Nov, 2016, Thursday 3:02 AM || অনলাইন সংস্করণ
maolana-abdul-hamid-khan-vashanijibonbarta-com_

আজ মজলুম জননেতা ভাসানীর ৪০ তম মৃত্যু বার্ষিকী

মো: শিমুল, ডেস্ক রিপোর্টার: আজ মঙ্গলবার  ১৭ নভেম্বর, মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪০ তম মৃত্যু বার্ষিকী। ১৯৭৬ সালের এ দিনে গোটা জাতিকে শোক সাগরে ভাসিয়ে উপমহাদেশের এ রাজনৈতিক সূর্য অস্ত গিয়েছিল। মওলানা ভাসানীর মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে উপমহাদেশের  রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে। মজলুম মানুষের পক্ষে বলিষ্ঠ কণ্ঠ স্তব্ধ হয়ে যায়।

এ উপলক্ষে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী পরিষদ, বাংলাদেশের ওয়াকার্স পাটি, বাংলাদেশ ন্যাপ এবং শহীদ আসাদ পরিষদ ও বাংলাদেশ গরীব মুক্তি আন্দোলনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- মঙ্গলবার সকাল ১০ টায় টাঙ্গাইলের সন্তোষে মজলুম জননেতার মাজারে বাংলাদেশের ওয়াকার্স পাটির উদ্যোগে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং শহীদ আসাদ পরিষদ ও বাংলাদেশ গরীব মুক্তি আন্দোলনের উদ্যোগে বিকেল ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সড়ক দ্বীপের স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্ত্বরে কবিতা পাঠ, আলোচনা সভা ও গণসঙ্গীতের অনুষ্ঠান।

দেশের বরেণ্য মুক্তিযোদ্ধা, গবেষক, রাজনীতিক, কবি, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক এ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ ন্যাপ তিন দিনব্যাপী বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ঢাকা মহানগরসহ দেশের সকল মহানগরে আলোচনা সভা, মওলানা ভাসানীর মাজার জিয়ারত, রাজধানীর ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে ভাসানীর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও স্মরণসভা এবং প্রত্যেক জেলায় জেলায় আলোচনা সভা।

সংক্ষেপে মওলানা ভাসানীর জীবনি:

মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী,  (১৮৮০-১৯৭৬)  ধর্মীয় নেতা ও রাজনীতি বিদ ছিলেন। মওলানা ভাসানী নামে সমধিক পরিচিত। তিনি ছিলেন একজন স্ব-শিক্ষিত ব্যক্তি; তাঁর জীবন ছিল গ্রাম ভিত্তিক, মতবাদ উগ্র এবং ঔপনিবেশিক রীতিনীতির প্রতি তিনি ছিলেন আস্থাহীন। তবে কখনো ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করেননি তিনি। তাঁর নেতৃত্বের ভিত্তি ছিল কৃষক শ্রমিক জনসাধারণ, যাদের অধিকার এবং স্বার্থ রক্ষার জন্য তিনি নিরবচ্ছিন্নভাবে সংগ্রাম করে গেছেন।
cms.somewhereinblog.net
মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ১৮৮০ সালের ১২ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জের ধানগড়া পল্লীতে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতা হাজী শারাফত আলী। হাজী শারাফত আলী ও বেগম শারাফত আলীর পরিবারে ৪ টি সন্তানের জন্ম হয়। একটি মেয়ে ও তিনটি ছেলে। মোঃ আব্দুল হামিদ খান সবার ছোট। তাঁর ডাক নাম ছিল চেগা মিয়া। ছেলে-মেয়ে বেশ ছোট থাকা অবস্থায় হাজী শারাফত আলী মারা যান। কিছুদিন পর এক মহামারীতে বেগম শারাফত ও দুই ছেলে মারা যায়। বেঁচে থাকলো ছোট শিশু আব্দুল হামিদ খান। স্থানীয় স্কুল ও মাদ্রাসায় কয়েক বছর অধ্যয়ন ছাড়া তার বিশেষ কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছিল না। তিনি কর্মজীবন শুরূ করেন টাঙ্গাইলের কাগমারিতে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে। পরে তিনি ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট এলাকার কালা গ্রামে একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন।

১৯১৯ সালে ব্রিটিশ বিরোধী অসহযোগ ও খেলাফত আন্দোলনে যোগদানের মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়। পরে তিনি টাঙ্গাইল জেলার সন্তোষে গিয়ে তখনকার  অত্যাচারিত কৃষকদের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। ত্রিশের দশকের শেষ দিকে তিনি আসামের ঘাগমারায় বসবাসকারী বাঙালিদের স্বার্থরক্ষার জন্য আন্দোলন শুরূ করেন। আবদুল হামিদ খান ভাসানী ঐ এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদীর ভাসানচরে বন্যার কবল থেকে বাঙালি কৃষকদের রক্ষার জন্য তিনি স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে একটি বাঁধ নির্মাণ করেন। ভাসানচরের জনসাধারণ তাকে ‘ভাসানী সাহেব’ বলে অভিহিত করে এবং পরবর্তীকালে এই উপাধি তাঁর নামের অবিচ্ছিন্ন অংশে পরিণত হয়।
bhasani_39715danikdhakareport_35914
আসাম সরকার আইন করে এমন একটি ভৌগোলিক সীমারেখা টেনে দেয় যাতে বাঙালিরা ঐ সীমা অতিক্রম করে বসতি স্থাপন করতে না পারে। এই আইনের বলে স্থানীয় অহমীয়রা ‘বাঙালি খেদাও’ আন্দোলন শুরূ করে। ১৯৩৭ সালে ভাসানী মুসলিম লীগে যোগদান করেন এবং অচিরেই দলের আসাম শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন। এই ভৌগোলিক বাধ্যবাধকতার ব্যাপারে আসামের মুখ্যমন্যী স্যার মোহাম্মদ সাদউল্লাহ্‌র সঙ্গে মওলানা ভাসানীর সংঘর্ষ বাঁধে। ভারত বিভাগের সময় ভাসানী আসামের গোয়ালপাড়া জেলায় এই প্রথার বিরূদ্ধে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন।

1242আসাম সরকার তাকে গ্রেপ্তার করে এবং ১৯৪৭ সালের শেষের দিকে এই শর্তে মুক্তি দেয় যে, তিনি চিরদিনের জন্য আসাম ছেড়ে চলে যাবেন। ১৯৪৮ সালের গোড়ার দিকে মওলানা ভাসানী পূর্ব বাংলায় আসেন, কিন্তু প্রাদেশিক মুসলিম লীগের নেতৃত্ব থেকে তাকে দূরে রাখা হয়। ভগ্ন হৃদয়ে তিনি দক্ষিণ টাঙ্গাইল এলাকার উপ-নির্বাচনে মুসলিম লীগ প্রার্থী এবং করটিয়ার জমিদার খুররম খান পন্নীকে পরাজিত করেন। কিন্ম প্রাদেশিক গভর্নর অসদুপায়ের অভিযোগ এনে নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করেন এবং সকল প্রার্থীকে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার অযোগ্য বলে ঘোষণা করেন।

১৯৪৯ সালে পন্নীর ওপর থেকে এই বাধা তুলে নেওয়া হয়, কিন্তু ভাসানীর ওপর তা বলবৎ থাকে। ১৯৪৯ সালে ভাসানী পুনরায় আসাম যান, এবং সেখানে তাকে গ্রেপ্তার করে ধুবড়ি জেলে পাঠানো হয়। কিছুদিন পর মুক্তি পেয়ে তিনি ঢাকায় ফিরে আসেন। এ সময় পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম লীগ নেতৃত্বে সংকট দেখা দেয় এবং দলের যুব-সদস্য ও ছাত্রলীগ কর্মীদের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি হয়। মুসলিম লীগের ক্ষুব্ধ সদস্যরা ঢাকায় ১৯৪৯ সালের ২৩-২৪ জুন এক কর্মী সম্মেলন আহবান করে। এ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয় স্বামীবাগের রোজ গার্ডেনে।

এতে প্রদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ৩০০ প্রতিনিধি যোগদান করেন। ২৪ জুন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল জন্মলাভ করে। এর সভাপতি হন মওলানা ভাসানী, এবং টাঙ্গাইলের শামসুল হক হন সাধারণ সমপাদক। জন্মদিনে নতুন দলটি ঢাকার আরমানিটোলায় ভাসানীর সভাপতিত্বে একটি জনসভার আয়োজন করে। ঐ স্থানে দ্বিতীয় সভাটি করা হয় ১১ অক্টোবর, এবং সভা শেষে প্রদেশে দুর্ভিক্ষাবস্থার প্রতিবাদে একটি শোভাযাত্রা নিয়ে সচিবালয় অভিমুখে অগ্রসর হলে ভাসানীসহ নতুন দলের অনেক নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
maulana_bhashani_BCCNews24
কারাগারে অনশনের ফলে তাঁর অবস্থা সঙ্কটাপন্ন হওয়ায় তাকে মুক্তি দেওয়া হয় (১৯৫০)। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে কয়েকজন ছাত্র নিহত হন। ভাসানী এর কড়া প্রতিবাদ করেন এবং ২৩ ফেব্রুয়ারি তাঁকে তাঁর গ্রামের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানো হয়। রাজনৈতিকভাবে ভাসানী এতে আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠেন।

পঞ্চাশের দশকের প্রথম দিকে ভাসানী সবচেয়ে প্রতিবাদী এবং শ্রদ্ধেয় রাজনীতিক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ১৯৫৪ সালের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন লাভ করে এবং মুসলিম লীগ পায় মাত্র ৭টি আসন। বারবার কারাবরণের ফলে কারাগারে কমিউনিস্টদের সঙ্গে মওলানার যোগাযোগ ঘটে এবং তিনি সমাজতান্তিক মতবাদ সমপর্কে আরও সচেতন হয়ে ওঠেন। কমিউনিস্টরা তাকে আদমজী জুটমিল মজদুর ইউনিয়নের এবং পূর্ব পাকিস্তান রেলওয়ে এমপ্লয়ীজ লীগের সভাপতি করে।
97
১৯৫৪ সালের মে দিবসে তিনি ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে দুটি বৃহৎ শ্রমিক সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন। ঐ বছরই তিনি পূর্ব পাকিস্তান কৃষক সমিতির সভাপতি হন। এর অল্পদিন পরে তিনি কমিউনিস্ট প্রভাবিত আন্তর্জাতিক শান্তি কমিটির পূর্ব পাকিস্তান শাখার সভাপতি পদে আসীন হন এবং স্টকহোমে অনুষ্ঠিত বিশ্বসান্তি সম্মেলনে যোগদান করেন। এ সুযোগে তিনি ইউরোপের বহৃ দেশ ভ্রমণ করে বিশবব্যাপী সমাজতান্যিক আন্দোলন সমপর্কে প্রত্যক্ষ জ্ঞান লাভ করেন। ইতিমধ্যে আওয়ামী মুসলিম লীগ এবং কৃষক শ্রমিক পার্টির দ্বন্দ্বের কারণে যুক্তফ্রন্ট ভাঙনের সম্মুখীন হয়। আপ্রাণ চেষ্টা করেও তিনি এই দ্বন্দ্ব মেটাতে পারেন নি।

এদিকে ১৯৫৬ সালে কেন্দ্রে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী আওয়ামী মুসলিম লীগ কোয়ালিশন সরকার গঠন করেন। সোহরাওয়ার্দী প্রধানমন্ত্রী হন এবং আতাউর রহমান খানকে পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী করা হয়। পাকিস্তানের সংবিধান প্রণয়নের ব্যাপারেও সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে মওলানার মতবিরোধ দেখা দেয়। প্রস্তাবিত পাকিস্তান সংবিধানে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থার বিরূদ্ধে মওলানা তীব্র প্রতিবাদ করেন। সোহরাওয়ার্দী পৃথক নির্বাচনের পক্ষপাতি ছিলেন। মওলানা তাঁর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঘেষা বৈদেশিক নীতিরও বিরোধিতা করেন। তিনি চেয়েছিলেন চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমপর্ক গডে় তুলতে।

মওলানা ভাসানী ১৯৫৭ সালে কাগমারিতে আওয়ামী লীগের এক সম্মেলন আহগ্ধান করেন। ঐ সম্মেলনে তিনি সোহরাওয়ার্দীর বৈদেশিক নীতির তীব্র বিরোধিতা করেন। এই মতবিরোধের কারণে দলে ভাঙন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ঐ বছর মওলানা ভাসানী ঢাকায় পাকিস্তানের সকল বামপন্থী দলের একটি সম্মেলন আহবান করেন এবং ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) নামে একটি নতুন দল গঠন করেন। তিনি এই দলের সভাপতি হন এবং এর সেক্রেটারি জেনারেল হন পশ্চিম পাকিস্তানের মাহমুদুল হক ওসমানী। এই সময় থেকে মওলানা প্রকাশ্যে বামপন্থী রাজনীতি অনুসরণ করতে থাকেন।

১৯৫৮ সালে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আইয়ুব খান রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করলে মওলানাকে আবার আটক করা হয়। ১৯৬৩ সালে জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর মওলানা চীন ভ্রমণে যান এবং ১৯৬৪ সালে হাভানায় বিশব শান্তি সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। তিনি আইয়ুব খানের প্রস্তাবিত মৌলিক গণতন্যীদের দ্বারা গঠিত নির্বাচকমণ্ডলীর কঠোর বিরোধিতা করেন এবং প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকারের ভিত্তিতে নির্বাচনের পক্ষে আন্দোলন শুরূ করেন।

১৯৬৭ সালে বিশ্ব সমাজতন্ত্র সোভিয়েতপন্থী ও চীনপন্থী এই দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়ে। পূর্ব পাকিস্তান ন্যাপও ভাগ হয়, এবং মওলানা চীনপন্থী দলের নেতৃত্বে থাকেন।তিনি আইয়ুব সরকারকে সাম্রাজ্যবাদের লেজুড় হিসেবে গণ্য করেন এবং আইয়ুব খানকে ক্ষমতা থেকে অপসারণের জন্য আন্দোলন শুরূ করেন। তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের বিরূদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং তাকে মুক্তি দানের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। বিরোধীদলের কঠোর আন্দোলনের মুখে আইয়ুব খান পদত্যাগ করেন এবং সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ইয়াহিয়া খান ক্ষমতায় আসীন হন।

রাজনৈতিক সংকট নিরসনের জন্য ইয়াহিয়া খান ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেমবর পার্লামেন্ট নির্বাচনের ব্যবস্থা করেন। মওলানা নির্বাচন বয়কট করে নভেম্বরের প্রলয়ঙ্করী ঘুর্ণিঝড়ে উপকৃলীয় অঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের ত্রাণ ও পুনর্বাসনে আত্মনিযে়াগ করেন। ঘুর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের অবহেলার কারণে মওলানা প্রকাশ্যে পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতা দাবি করেন।

1321579516Maolana Abdul Hamid Khan Vashani[Jibonbarta.com]১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরূ হলে মওলানা ভাসানী ভারতে চলে যান; কিন্তু স্বাধীনতা যুদ্ধের  সময় তাকে দিল্লিতে আটক রাখা হয়। ১৯৭২ সালের ২২ জানুয়ারি ঢাকায় ফিরে তিনি সর্বপ্রথম যে দাবিটি তোলেন তা হলো বাংলাদেশ ভূখণ্ড থেকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর অপসারণ। ঐ বছর ২৫ ফেব্রুয়ারি তিনি ‘হককথা’ নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকার প্রকাশনা শুরূ করেন। অচিরেই পত্রিকাটির প্রচার সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। পত্রিকাটি অল্পদিন পরেই নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়। ১৯৭৩ সালের পার্লামেন্ট নির্বাচনের পর মওলানা দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির মূল্যের ঊর্ধগতি, আইন-শৃঙখলা পরিস্থিতির অবনতি এবং খাদ্য সংকটের প্রতিবাদে অনশন শুরূ করেন।

১৯৭৪ সালে তিনি হৃকুমত-ই-রবগ্ধানী তরিকার প্রতিষ্ঠা করেন এবং আওয়ামী লীগ সরকার এবং ভারত-সোভিয়েতের কর্তৃত্বের বিরূদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করেন। ১৯৭৪ সালের এপ্রিল মাসে ছয়টি দল নিয়ে মওলানার নেতৃত্বে একটি যুক্তফন্ট গঠন করা হয়। এই ফন্ট ভারত-বাংলাদেশ সীমানা চুক্তি অবিলমেব রদ এবং বিরোধী দলের বিরূদ্ধে নির্যাতনমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার দাবি জানায়।

৩০ জুন মওলানাকে গ্রেপ্তার করে টাঙ্গাইল জেলার সন্তোষে স্বীয় বাসভবনে গৃহবন্দী করা হয়। মওলানা ভাসানী ফারাক্কা চুক্তিকে বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থী বলে মনে করেন। তিনি ১৯৭৬ সালের ১৬ মে রাজশাহী থেকে ফারাক্কা অভিমুখে এক লং মার্চে নেতৃত্ব দেন। ১৯৭৬ সালের ২ অক্টোবর তিনি খোদায়ী খিদমতগার নামে একটি নতুন সংগঠন গড়ে তোলেন এবং সন্তোষে ইসলামী বিশববিদ্যালয় স্থাপনের কাজে আত্মনিয়োগ করেন। তিনি সন্তোষে একটি কারিগরি শিক্ষা কলেজ, মেয়েদের একটি স্কুল এবং একটি শিশু কেন্দ্র স্থাপন করেন। তিনি পাঁচবিবিতে নজরূল ইসলাম কলেজ এবং কাগমারিতে মওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। আসামে তিনি ইতিপূর্বে ৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছিলেন।
মৃত্যু: ১৯৭৬ খৃস্টাব্দের ১৭ই নভেম্বর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এই দেশ বরেণ্য নেতা মৃত্যুবরণ করেন। তাঁকে টাংগাইল জেলার সদর উপজেলার উত্তর-পশ্চিমে সন্তোষ নামক স্থানে পীর শাহজামান দীঘির পাশে সমাধিস্থ করা হয়। সারা দেশ থেকে আগত হাজার হাজার মানুষ তাঁর জানাযায় অংশগ্রহণ করে।

Check Also

aids

আজ বিশ্ব এইডস দিবস

প্রজন্ম ডেস্কঃ আজ বিশ্ব এইডস দিবস। সচেতনতা ও আধুনিক চিকিৎসা সুবিধার অভাবে দেশে প্রতি বছরই ...