Tuesday , December 6 2016
Home / সম্পাদকীয় / অস্থিতিশীল হতে পারে আমেরিকা
প্রকাশঃ 14 Nov, 2016, Monday 11:33 AM || অনলাইন সংস্করণ
momen

অস্থিতিশীল হতে পারে আমেরিকা

প্রজন্ম ডেস্কঃ আমেরিকার স্থিতিশীলতা বিশ্বের সব দেশের জন্যই দরকার।  কারণ আমেরিকা যদি স্থিতিশীল না হয় তাহলে বিশ্বজুড়ে শুরু হবে অস্থিতিশীলতা। সেজন্য আমেরিকার স্থিতিশীলতা আমাদের প্রত্যেকের কাম্য। বললেন, জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

আরটিভিকে দেয়া সাক্ষাতকারে তিনি আরো বলেন, ট্রাম্পের বিতর্কিত বক্তব্য অনেকের ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ট্রাম্প নিয়ে আমাদের থেকে বেশি ভয় ইউরোপিয়ানদের। কারণ ট্রাম্প বলেছেন ইউরোপিয়ানদের দায়িত্ব তিনি নেবেন না । যার কারণে ন্যাটো দেশগুলোতে খরচ অনেক বেড়ে যাবে এবং তাদের প্রতিরক্ষার বিষয়টি অসুবিধাজনক অবস্থায় পড়বে।

ট্রাম্প একইসাথে রাশিয়ার সঙ্গে সর্ম্পক ভালো করার কথাও বলেছেন। কিন্তু ঐতিহাসিকভাবে রাশিয়ার সঙ্গে আমেরিকার  দ্বন্দ্ব রয়েছে। এ অবস্থায় আমেরিকানরা কীভাবে এ বিষয়টি গ্রহণ করবেন তা ভাবার বিষয়।

অন্যদিকে ট্রাম্প চীন থেকে পণ্য আনা বন্ধের কথাও  বলেছেন। যদি পণ্য আনতে হয় তাহলে অনন্ত ৪৫ শতাংশ কর দিতে হবে। রিপাবলিকান দল সবসময় ফ্রি ট্রেডে  বিশ্বাস করে। সে জায়গায় তিনি ৪৫ শতাংশ করের কথা বলেছেন।

এমনকি আমেরিকার পাশের দেশ মেক্সিকো থেকে যত পণ্য আসবে সেগুলোতে ৪০ শতাংশ শুক্ল ধার্য করবেন বলেও ঘোষণা দিয়েছেন। এগুলোর ফলে আমেরিকার জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাবে।

এসব কারণে আমেরিকার জিডিপি নিম্নমুখী হবে এবং আমেরিকার ব্যবসায়ীরা আগ্রহ হারাবে। তবে তিনি ব্যবসায়ীদের আয়কর ৩৫ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার কথা বলেছেন। শুধু আয়কর কমলে যে ব্যবসায়ীরা বিনোয়োগ করবেন তা ভুল। পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হলে তারা বিনোয়োগ করবেন না।

আব্দুল মোমেন বলেন, আমেরিকাতে নানা সম্প্রাদায়ের মানুষের বসবাস। তাদেরকে নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য আমেরিকার পরিবেশ অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। যার ফলে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দেবে। আর মন্দা দেখা দিলেই মানুষ চাকরি হারাবে। এর প্রভাব পড়বে আমাদের ওপরও।

আমেরিকা সবসময় অন্যদেশগুলোকে পরামর্শ, উপদেশ দিয়ে থাকে। ট্রাম্প নির্বাচিত হওয়ায় সে ক্ষেত্রটি সীমিত হয়ে আসতে পারে। কারণ ট্রাম্পের নানা বক্তব্যে আমেরিকা নিজেই বেশ অসুবিধায় পড়বে। তাদের গ্রহণযোগ্যতা অনেক কমে যাবে।

তিনি বলেন, দুনিয়াকে শুধু অস্ত্র দিয়ে প্রতিহত করা যায় না। আমেরিকার সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল তার আইনের শাসন। আর সেটি যদি অবহেলিত হয় তাহলে আমেরিকা তার শক্তি হারাবে। আমেরিকা সবসময় অন্যদের সমস্যা সমাধানে মাথা ঘামায়। কিন্তু বর্তমানে আমেরিকা নিজেই সঙ্কটের মধ্যে আছে।

আব্দুল মোমেন বলেন, আমেরিকার সবচেয়ে বড় অঙ্গরাজ্য ক্যালিফোর্নিয়া। নির্বাচনের ফলাফলে এ রাজ্যবাসী খুবই অসুন্তুষ্ট। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদাও হতে চায় তারা। তাছাড়া দেশজুড়ে চলছে বিক্ষোভ। এ বিষয়গুলো যদি ট্রাম্প শক্ত হাতে দমন করতে না পারেন তাহলে আমেরিকায় সঙ্কট সৃষ্টি হবে। দেশ আরো বেশি বিভাজিত হবে।

নির্বাচনী প্রচারাভিযানে ট্রাম্প বলেছিলেন, দায়িত্ব হাতে নেবার প্রথম দিনই তিনি ১০ লাখ অভিবাসীকে দেশছাড়া করবেন। আমেরিকায় ১ কোটি ২০ লাখ অবৈধ অভিবাসী আছেন, এদের মাঝে বাংলাদেশি খুবই কম। সেক্ষেত্রে আমাদের চেয়ে বেশি ক্ষতি হবে অন্যদের। আমিরেকার আইন বেশ শক্তিশালী, যার ফলে আমেরিকা সরকার অভিবাসীদের প্রতি নমনীয় থাকবেন। কিন্তু ট্রাম্প যে বিভাজন শুরু করেছেন তার ফলে শ্বেতাঙ্গরা (সাদা চামড়া) অন্যদের হেনেস্থা করবে।

যেসব বাংলাদেশি আমেরিকায় আছেন তাদের অধিকাংশই  নাগরিকত্ব পেয়েছেন। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশিরা তেমন সমস্যায় পড়বেন না বলে মনে করেন ড. আব্দুল মোমেন।

তিনি বলেন, আসছে দিনগুলোতে আমেরিকা কী সঙ্কটময় পরিস্থিতির দিকে যাবে তা সময়ই বলে দেবে।

Check Also

boder-projomo

ঝিনাইদহ ও কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিএসএফ’র গুলিতে ২ বাংলাদেশি নিহত

প্রজন্ম  ডেস্কঃঝিনাইদহ ও কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিএসএফ’র গুলিতে দুই বাংলাদেশি গরু ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার ভোররাতে ...