Friday , December 9 2016
সদ্য প্রাপ্ত
Home / Slider / অলৌকিক ভাবে পানির উপর দাঁড়িয়ে আছে মেঘনা সেঁতু (ভিডিও)
প্রকাশঃ 01 Nov, 2016, Tuesday 12:57 AM || অনলাইন সংস্করণ
megana

অলৌকিক ভাবে পানির উপর দাঁড়িয়ে আছে মেঘনা সেঁতু (ভিডিও)

প্রজন্ম ডেস্ক: পানির উপর অলৌকিক ভাবে দাঁড়িয়ে আছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ মেঘনা সেঁতু । পুনর্বাসন ও মেরামতের প্রায় দুই বছরের মধ্যে নতুন করে ঝুঁকিতে পড়েছে মেঘনা সেতু। ভারী যানবাহন চলাচল করলেই আগের মতোই সেতুটি কেঁপে উঠছে। পিয়ার বা পিলারের কাছের মাটি সরে বড় ধরনের গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে স্রোত বেশি থাকায় গর্ত দ্রুত বড় হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করতে না পারলে বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে পড়বে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ এ সেতুটি। সম্প্রতি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের এক মনিটরিং সার্ভেতে মেঘনা সেতুর ঝুঁকির এই তথ্য বেরিয়ে এসেছে। বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু মেঘনা সেতু। ১৯৯১ সালে এই সেতুর উদ্বোধন হয়।

সেতুর ৬নং পিলার পাশ থেকে মাটি সরে গিয়ে সেখানে বড় ধরনের খাদের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিনিয়তই বৃদ্ধি পাচ্ছে খাদের আকৃতি। বর্তমানে সেতুর ৭, ৮ ও ৯নং পিয়ারের নিচের অংশ মাটিশূন্য অবস্থায় রয়েছে। এর ফলে যে কোনো মুহূর্তে এ সেতুতে ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত ওজনবাহী ট্রলার চলার কারণে প্রপেলারের আঘাতে সেতুর পিয়ারের মাটি সরে গেছে। ডুবুরিরা পর্যবেক্ষণ করে এসে জানিয়েছেন, ওই তিনটি পিয়ার এক অর্থে ঝুলন্ত অবস্থায় আছে। ৭নং পিয়ারের সঙ্গে কিছু মাটি থাকলেও ৮ ও ৯নং পিয়ার একেবারেই ঝুলন্ত অবস্থায়। জাপানের অর্থায়নে নির্মিত মেঘনা সেতু দিয়ে ১৯৯১ সালে যানবাহন চলাচল শুরু হয়। ১ ফেব্রুয়ারি এই সেতু যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। জাপান সরকারের অর্থায়নে সেতু নির্মাণের দায়িত্বে ছিল জাপানের নিপ্পন কোই কোম্পানি। সেতুটি বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের সময় নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের গাইডলাইনে বলা হয়, যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে কমপক্ষে ৫০ বছর বড় ধরনের সংস্কার ছাড়াই সেতুটি সচল থাকবে।

সেতুর পিলারের কাছে ক্ষতের কথা উল্লেখ করে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর (সওজ) সূত্র জানায়, সেতুর নিচ দিয়ে নৌযান চলাচলের কারণেই ঝুঁকিতে পড়েছে সেতুটি। নৌযান চলাচলের কারণে পিলারের নিকট সৃষ্টি হচ্ছে নতুন নতুন ক্ষত।
একাত্তর টিভি সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের সার্ভেতে দেখা গেছে, ৬নং পিলারের ক্ষতের পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে।

মেঘনা নদীর তলদেশ সার্ভে করে দেখা গেছে পিলারটির পাইলিং মারাত্মক ঝুঁকিতে। এই পরিস্থিতিতে ৬, ৭, ৮ ও ৯নং পিলার ঝুঁকিমুক্ত করতে মেঘনা সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ কাজ জরুরি হয়ে পড়েছে। এছাড়া, মেইনট্যানেন্স ম্যানুয়াল অনুসারে সেতু দু’টির রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত জরুরি।

সওজ সূত্র জানায়, সেতু ঝুঁকিমুক্ত করতে জরুরি ভিত্তিতে প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। ‘মেঘনা সেতুর স্কাউয়ার প্রটেকশন এবং মেঘনা সেতু ও গোমতী সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ’ প্রকল্পের আওতায় এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এতে মোট ব্যয় হবে ৪২ কোটি ১৮ লাখ টাকা।
প্রকল্পের আওতায় নদীর স্কাউয়ার প্রতিরক্ষা (বালুভর্তি জিওব্যাগ এবং বালু ভর্তি জুট ব্যাগ), হিঞ্জ বিয়ারিং রক্ষণাবেক্ষণ, এক্সপানশন জয়েন্ট রক্ষণাবেক্ষণ, রেলিং এবং কার্ব রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে। এছাড়া প্রিমিক্স ওভারলে, রোড মার্কিং এবং স্ট্রিট লাইটিংয়েরও ব্যবস্থা করা হবে।

সওজ-এর প্রধান প্রকৌশলী এম ফিরোজ ইকবাল বলেন, সেতু নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত করতে প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়েছে। মেঘনা সেতুর ৬নং পিলার ঝুঁকিতে রয়েছে।এর চারপাশ থেকে মাটি সরে গেছে। প্রকল্পের আওতায় স্কাউয়ার প্রটেকশন কাজের মাধ্যমে মেঘনা নদীর ৬নং পিলারকে ঝুঁকিমুক্ত করা হবে।অন্যদিকে মেঘনা এবং গোমতী সেতুর হিঞ্জ বিয়ারিং ও এক্সপানশন জয়েন্টগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে সেতু দু‘টিকে যে কোনো রকমের ঝুঁকির হাত থেকে রক্ষা করা হবে।’

উল্লেখ্য, এ সেতুর দৈর্ঘ্য ১৪১০ মিটার এবং প্রস্থ ৯ দশমিক ২ মিটার। ১৭ পিলার বিশিষ্ট সেতুটি দুই লেন বিশিষ্ট। এই সেতুর উপর দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২০০০০ গাড়ি চলাচল করে। চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও নোয়াখালীসহ ওই ‍অঞ্চলের অন্যান্য জেলার মানুষের সঙ্গে রাজধানীর সড়ক পথে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম সেতুটি।

ভিডিও

Check Also

roka

আজ বেগম রোকেয়া দিবস

মো: শিমুল প্রজন্ম ডেস্ক রিপোর্টার: আজ ৯ ডিসেম্বর বেগম রোকেয়া দিবস। তিনি ১৮৮০ সালের ৯ ...