Saturday , December 10 2016
সদ্য প্রাপ্ত
Home / অন্যান্য / অপরাধ না করেও পাঁচশো টাকায় জেলে থাকতে পারবেন!
প্রকাশঃ 30 Aug, 2016, Tuesday 4:42 PM || অনলাইন সংস্করণ
123

অপরাধ না করেও পাঁচশো টাকায় জেলে থাকতে পারবেন!

প্রজন্ম ডেস্ক: চোখ কপালে উঠে গেল তো? হওয়ারই কথা। যে শুনবে, সেই হতভম্ব হয়ে যাবে। কিন্তু এমনটাই বাস্তবে ঘটে চলেছে। ৫০০ টাকার বিনিময়ে এখন অনেকেই জেলে থেকে আসেন। চাইলে আপনিও থেকে আসতে পারেন। তবে হ্যাঁ, এরজন্য কোনও অপরাধ করতে হয় না।

বলে কী! অপরাধ না করেই সোজা কারাবাস। তাও আবার স্বেচ্ছায়, ৫০০ টাকার বিনিময়ে। বাবার জন্মে শুনেছে কেউ? লোকে তো নানা অছিলায় ঘুষটুশ দিয়ে জেলে রাত কাটানো আটকায়। পাছে ইমেজে কালি না লেগে যায়। কিন্তু এতো একেবারে “টাকা ফেলো, কয়েদি হও” ব্যাপার।

তা হলে খোলসা করে বলি। এই জেলে রাত কাটানো আর কিছুই নয়, পর্যটনের একটি ছোট্ট অংশমাত্র। জেল হোমস্টে। ভারতের তেলেঙ্গনার সাঙ্গারেড্ডি জেলার মেদক জেলকে হোমস্টে করে তোলার প্রচেষ্টায় পা বাড়িয়েছে সেখানকার পর্যটন কেন্দ্র। ঠিক যেভাবে কয়েদিদের জেলে রাখা হয়, যে ধরনের খাবার দেওয়া হয়, তেমনভাবেই রাখা হয় কয়েদি সাজতে ইচ্ছুক পর্যটককে। অর্থাৎ, নরকে না গিয়েও নরকবাস। অনেকের মনেই কয়েদিদের জীবনধারণ নিয়ে কৌতূহল থাকে। অনেকেই জানতে চেষ্টা করেন, জেলে কয়েদিরা কেমনভাবে থাকে, সারাদিন কী করে। সেই “কয়েদি কয়েদি” ফিলিংসকে বাস্তবায়িত করতে এই ব্যবস্থা নিয়েছে তেলেঙ্গনা পর্যটন কেন্দ্র।

গত জুনের ৫ তারিখ হোমস্টেসহ জেল মিউজিয়ামটি উদ্বোধন করেন তেলেঙ্গনার হোম মিনিস্টার নয়নি নরসিংহ রেড্ডি। পরদিনই জনসাধারণের জন্য পরিষেবা চালু হয়ে যায়। প্রবেশ খরচ বড়দের জন্য ১০ টাকা, ছোটোদের জন্য ৫ টাকা। আর যাঁরা খোদ কয়েদি হতে ইচ্ছুক, তাঁদের জন্য একরাতের জেল হোমস্টের খরচ মাথাপিছু ৫০০টাকা।

ঋববষ-ঃযব-ঔধরষথঝঊঈঠচঋকয়েদিদের কীভাবে জেলে রাখা হয় বোঝাতে পর্যটকদের প্রথমেই জেলে পুড়ে বাইরে থেকে তালাবন্ধ করে দেওয়া হয়। আর দেওয়া হয় কয়েদিদের উপযুক্ত খাবার। তবে মাথার উপর একটি ফ্যান থাকে। জেলের ঠওচ সেলে যেমন থাকে আরকী। ‘কয়েদি’ পর্যটকদের পোশাকও পালটাতে হয় এর জন্য। পরতে হয় সাদা কালো স্ট্রাইপ খাদির পোশাক। খেতে দেওয়া হয় সাদা স্টিলের প্লেটে ও গ্লাসে। সেলের ভিতর থাকে স্টিলের মগ, হাত ধোওয়ার সাবান, টয়লেট সোপ ও মাটিতে বিছানো বেডিং।

খাবারের তালিকায় থাকে, ব্রেকফাস্টে রুটি। লাঞ্চে পিজন চা ও রসম বা লাল গম ও রসম। ডিনারে থাকে কারি, রসম ও দই। সেলে চা দেওয়া হয় সকাল-বিকেল – ভোর ৬টা থেকে ৬.৩০টা ও বিকেল ৪.৩০টে থেকে ৫টা। ব্রেকফাস্ট ৭টা থেকে ৭.৩০টার মধ্যে চলে আসে, লাঞ্চ ১০.৩০টা থেকে ১১টার মধ্যে। জেলের খাবার আসে কান্ডি জেল থেকে। চা বানানো হয় জেলেই।

সাধারণত দেশের প্রত্যেক কয়েদিকেই জেলের কিছু কাজ করতে হয়। তবে এই বিশেষ জেলটিতে তেমন কোনও কাজ করতে হয় না। কয়েদিরূপী পর্যটকরা চাইলে জেলের বাগানে গাছ পুঁততে পারেন। এতকিছু জেনে এবার নিশ্চয় বলতে ইচ্ছে করছে, “সত্য স্যালুকাস, কী বিচিত্র দেশ ভারত!” সূত্র : এনাডু ইন্ডিয়া

Check Also

microsoft-selfie-app

‘মাইক্রোসফট সেলফি’ অ্যাপস আসছে অ্যানড্রয়েডে

অনলাইন ডেস্ক: সেলফি প্রেমিদের কাছে ‘সেলফি’ ছাড়া এখন যেন কোন সেলিব্রেশনই সম্পূর্ণ হয় না। স্মার্টফোনের ...